উখিয়ায় অজগর উদ্ধার করে প্রশংসায় ভাসছেন বনকর্মীরা


কক্সবাজারের উখিয়ায় লোকালয় থেকে ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি অজগর উদ্ধার করে বনবিভাগের কর্মীরা এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সোমবার বিকালে উখিয়া রেঞ্জের সদর বিটের মহুরীপাড়া এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় তারা অজগরটি উদ্ধার করে দোছড়ি বিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয় বলে জানা গেছে।
উখিয়া রেঞ্জের সদর বিট কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান রনি বলেন, “ উদ্ধারকৃত অজগরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ১৫ কেজি। এটি লোকালয়ে প্রবেশ করায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। খবর পেয়ে দ্রুত গিয়ে অজগরটিকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে এটিকে নিরাপদে সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করেন।
এলাকাবাসী জানায়, খবর পেয়ে বনবিভাগরে কর্মীরা দ্রুত এসে দক্ষতার সাথে সাপটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তাই তাদেরকে এলাকার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
জানা যায়, অজগর বিষধর সাপ নয়। এরা অ-বিষাক্ত সাপ এবং শিকার করার জন্য বিষের পরিবর্তে পেশীশক্তি ব্যবহার করে। শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে। অজগর পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম সাপ এবং কোবরা বা চন্দ্রবোড়ার মতো বিষধর সাপের চেয়ে ভিন্নভাবে নিজেদের শিকারকে আয়ত্তে আনে। অজগর সাধারণত আক্রমণাত্মক নয় এবং মানুষের জন্য বিষাক্ত না হওয়ায় এরা বিপজ্জনক নয়, যদিও এর বিশাল আকারের জন্য মানুষ ভয় পেয়ে থাকে।
জানা যায়, কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইদানিং বনভূমি থেকে বিভিন্ন জাতের সাপ লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। সাপের কামড়ে প্রাণ হারানোর খবরও পাওয়া যায় প্রায়ই।
কয়েক মাস আগে কক্সবাজারের পেকুয়ায় বিষধর সাপের কামড়ে রুবেল (৩৫) নামের এক অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়। রুবেল রাত ১টার দিকে টয়লেট করার জন্যে ঘর থেকে বের হলে ঘরের দরজার সামনে একটি বিষধর সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। পরিবারের লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ভেকসিন না থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) রেফার করেন। ততক্ষণে পুরো শরীরে বিষ জড়িয়ে গিয়ে সকালে তার মৃত্যু হয়।
















