একটি বা দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনের সমান বরাদ্দ দিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন সাধন কোনভাবেই সম্ভব নয় : ওয়াদুদ ভুইয়া

fec-image

খাগড়াছড়ি আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া বলেছেন, একটি বা দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনের সমান বরাদ্দ দিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন সাধন কোনভাবেই সম্ভব নয়।

তিনি বলেন,সরকার সারাদেশের সুষম উন্নয়নের জন্য যে বিশাল কর্মযোগ্য বরাদ্ধ বাজেট রেখেছে, তার আলোকেই আমি আমার নির্বাচনী এলাকা দেশের অন্যতম দুর্গম ও অনগ্রসর অঞ্চল খাগড়াছড়ী পার্বত্য জেলার মানুষের ভাগ্যবদল, স্থায়ী অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য এই বাজেট থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু বিশেষ বরাদ্দ দাবি করছি।

বৃহস্পতিবার ( ২৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন ।

স্বল্প বরাদ্দকৃত বাজেট দিয়ে দুর্গম পার্বত্য  অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন সাধন কোনভাবেই সম্ভব নয় উল্লেখ করে ওয়াদুদ ভুইয়া বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা তিনটি পৌরসভা এবং নয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। ভৌগোলিক অবস্থান ও বাস্তবতার দিক থেকে দেশের অন্যান্য সাধারণ জেলার তুলনায় আমার এই পার্বত্য জেলা সম্পূর্ণ ভিন্ন, অত্যন্ত দুর্গম, যার আয়তন উপজেলার সংখ্যা দেশের অনেক জেলার চেয়েও বেশি। কিন্তু জাতীয় বাজেটে এর আসনভিত্তিক সাধারণ বরাদ্দ আমার আসনের জন্য আসে, তখন নয়টি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভার বিশাল অঞ্চলে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমাকে চরম হিমসিম খেতে হয়। মাত্র একটি বা দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনের সমান বরাদ্দ দিয়ে এ বিশাল দুর্গম পার্বত্য  অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন সাধন কোনভাবেই সম্ভব নয়।

এই সময় খাগড়াছড়ির স্বাস্থ্যসেবার বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, আমার এলাকা স্বাস্থ্যসেবায় খুবই পিছিয়ে আছে। তাই আমি স্বাস্থ্য খাত থেকে একটি মেডিকেল কলেজ এবং মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোকে আধুনিক করার দাবি জানাচ্ছি।

খাগড়াছড়িতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বনায়ন প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষা খাত থেকে আমি এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দাবি জানাচ্ছি এবং আমাদের এখানে বনায়নের জন্য একটা বনায়ন গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের আবেদন জানাচ্ছি।

নিজ আসনের শিক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষা বা স্কুল-কলেজগুলোর অবস্থা খুব করুণ। সেখানে যে কয়জন শিক্ষক থাকার কথা, তার অর্ধেকেরও কম শিক্ষক বিদ্যমান। কারণ শিক্ষকরা গেলে ওখান থেকে আবার ফিরে চলে আসতে চায়। সরকারি কর্মচারীরা ওখানে গেলে কেউ থাকতে চায় না। কেউ যদি আপনার পরিবেশ বা পাহাড়ের প্রেমে পড়ে থাকতে চায়, তাদেরকে আবার হঠাৎ করে আপনার নিয়ে আসে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, পাহাড়কে বুঝানো হয়, বলা হয় যেটা পানিশমেন্ট জোন, তো পানিশমেন্ট জোনে কেউ গেলে থাকতেও চায় না। এই ট্রেডিশন থেকে আমাদের মন্ত্রণালয়গুলো বেরিয়ে আসার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের কলেজগুলোর ডরমেটরি মানে একাডেমিক ভবন ইত্যাদি জিনিসগুলো অত্যন্ত সংকট অবস্থায় আছে।

পাহাড়ে পানির সংকটের বিষয় নিয়ে তিনি বলেন,  আমাদের এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বিশেষ করে পাহাড়ের চূড়া এবং পাহাড়ের ঢালে যে সমস্ত মানুষ বসবাস করে, তারা কেউই পানির সুবিধা পায় না। ১০০০ ফিট নিচ থেকে পানি এনে, পানি উঠিয়ে খেতে হয় অনেক পাহাড়িদেরকে, অনেক বাঙালিদেরকে।

ওয়াদুদ ভুইয়া তার বক্তব্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সুষম উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানান।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ওয়াদুদ ভুঁইয়া, খাগড়াছড়ি, পাহাড়
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন