কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের প্রশ্নবিদ্ধ উচ্ছেদ অভিযান
ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার :
কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে সড়ক ও জনপদের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকালে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর কলাতলী সৈকতে যাওয়ার রাস্তার উত্তর পাশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় শুধু মাত্র ৯৯ প্রাইভেট লিমিটেডের একটি ছোট আন্ডার কন্সট্রাকশন স্থাপনার মাত্র দুই ফিট ভেঙ্গে দেয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য মতে, কলাতলী মোড়ের জ্ব ভাস্কর্য থেকে শুরু করে পশ্চিম দিকে প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান ও স্থাপনা রয়েছে রাস্তার পাশে। আর সেই স্থাপনাগুলো যদি সড়ক ও জনপদের আওতাধীন হয় এবং অবৈধ হয় তাহলে সবগুলো উচ্ছেদ করা উচিৎ।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযান পরিচালনাকারীদের দেখে মনে হয়েছে তারা শুধুমাত্র ৯৯ প্রাইভেট লিমিটেড’র ছোট আন্ডার কন্সট্রাকশন স্থাপনাটিই উচ্ছেদ করতে এসেছেন। এমনকি এই প্রপার্টিজের পাশের কোন স্থাপনা বা দোকানে বিন্দুমাত্র উচ্ছেদ করেনি। স্থানীয়দের প্রশ্ন যদি প্রপার্টিজের আশে পাশের স্থাপনা অবৈধ হয়, তাহলে কেন বাকীগুলো উচ্ছেদ না করে শুধুমাত্র একটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলো ?
কলাতলীর উচ্ছেদকৃত স্থানে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৯৯ প্রাইভেট লিঃ এর অপর পাশে রাস্তার বাম দিকে একটি ১২ তলা বিশিষ্ট ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। ঐ ভবনের প্রায় ২৮ ফিট জায়গা অবৈধ। এছাড়া কলাতলী সৈকতে নামার রাস্তার উত্তর পাশে পৌরসভার ড্রেইন এর স্লেপ দখল করে শুটকির দোকানসহ বিভিন্ন দোকান গড়ে উঠেছে। অথচ ৯৯ প্রাইভেট লিমিটেড’র ছোট আন্ডার কন্সট্রাকশন স্থাপনাটি কোন স্থাপনাই উচ্ছেদ করা হয় নি।
৯৯ প্রাইভেট লিঃ এর চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেন, সড়ক ও জনপদের উচ্ছেদ অভিযান সেটাকে আমি সম্মান করি, তারা ভাল কাজ করছেন, তাদের কাজে আমিও সহযোগীতা করতে চাই। তবে আমার স্থাপনা যদি তাদের জায়গাতে পড়ে তাহলে তা অবশ্যই উচ্ছেদ করবেন। কিন্তু উচ্ছেদ করার আগে আমাকে তারা কোন প্রকার নোটিশ বা সময় দেয়নি। আমাকে নুনতম একদিনে সময় দেয়া উচিৎ ছিল। আর আমার বৈধ কাগজপত্র দেখানোর সময় পর্যন্ত তারা দেননি। আমার জমির কাগজ অনুযায়ী উচ্ছেদকৃত স্থাপনাটি বৈধ ছিল এবং তা আমার মালিকাধীন জমির ২০.০৩৫ দাগের মধ্যে পড়ে। আর আমার জানা মতে, এই দাগের পর থেকে সড়ক ও জনপদের জায়গা শুরু।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, হলিডে মোড় থেকে শুরু করে লাবণী পয়েন্ট হয়ে কলাতলী পর্যন্ত সড়ক ও জনপদের জায়গাতে যে সব অবৈধ স্থাপনা পড়ে সে সমস্ত স্থাপনা সরিয়ে নিতে এবং এগুলো উচ্ছেদ করা হবে বলে ২০১৩ সালে নোটিশ দেয়া হয়েছে। ঐ সমস্ত জমিতে যদি কেউ নতুন স্থাপনা নির্মাণ করে তাহলে তাদের নোটিশ দেয়া হয়, অন্যথায় কাউকে নতুন করে নোটিশ দেয়া হয় না।
এদিকে ৯৯ প্রাইভেট লিঃ কর্তৃপক্ষ বলছেন, আমাদের কলাতলী প্রপার্টিজের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৪ সালের প্রথম দিকে। সে অনুযায়ী সড়ক ও জনপদ যদি ২০১৩ সালে উচ্ছেদের কোন নোটিশ দিয়ে থাকে সেটা আমাদের পাওয়ার কথা না। যেহেতু আমরা ২০১৪ সালে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেছি সেহেতু আমাদের অবগত করা এবং নতুন করে নোটিশ দেয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু এ যাবৎ আমরা এমন কোন নোটিশ সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর থেকে পাইনি। সূত্রটি আরো নিশ্চত করেছে যে তাদের জমির সকল প্রকার কাগজ বৈধ।
এব্যাপারে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকাতে অবস্থান করছি। অভিযানের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। অভিযানটি পরিচালনা করেছেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, তার সাথে যোগাযোগ করলে তথ্য পাওয়া যাবে।”
সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ এমদাদ হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বুধবার থেকে আমাদের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। হলিডে মোড় থেকে শুরু করে লাবণী পয়েন্ট হয়ে কলাতলী পর্যন্ত সড়ক ও জনপদের জায়গাতে যে সব অবৈধ স্থাপনা পড়ে সে সমস্ত স্থাপনা সরিয়ে নিতে এবং এগুলো উচ্ছেদ করা হবে বলে ২০১৩ সালে নোটিশ দেয়া হয়েছে। তবে কলাতলীতে মাত্র একটি স্থাপনার দুই ফিট উচ্ছেদ করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি উচ্ছেদ অভিযানে নের্তৃত্বদানকারী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলে জানান, তিনি সঠিক তথ্য দিতে পারবেন।


















