কলাবতী শাড়ির প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী


আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এই শাড়িটি উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হবে।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে কলা গাছের আঁশ থেকে তৈরি হয়েছে সুতা, আর সেই সুতা তাঁতে বুনে তৈরি করা হয়েছে শাড়ি। কলাগাছের আঁশ থেকে তৈরি সুতা দিয়ে বানানো এ শাড়ির নাম দেয়া হয়েছে ‘কলাবতী’। পর্যটনের পাশাপাশি বান্দরবানের খ্যাতির পালকে আরো একটি নাম যুক্ত হলো কলাবতী শাড়ি। শুধু জেলা নয়, দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই শাড়ির সুনাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই শাড়ির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাহাড়ি নারীদের স্বাবলম্বী করতে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছ্মিন পারভীন তিবরীজি। সেই প্রকল্পের আওতায় পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া নারীদের প্রশিক্ষণ দিতে সিলেটের মৌলভীবাজারের মণিপুরী প্রশিক্ষক রাধাবতী দেবীকে আহ্বান জানানো হয়। মৌলভীবাজারের মণিপুরী তাঁত শিল্পী রাধাবতী দেবী জেলা প্রশাসকের অনুরোধে বান্দরবানে এসে প্রথমবারের মতো কলা গাছের সুতা থেকে এ শাড়িটি বুনেছেন। তার তত্ত্বাবধানে ১৫ দিনের প্রচেষ্টায় প্রথম পর্যায়ে কলাগাছের তন্তু বা আঁশ থেকে সুতা তৈরি করেন। এই সুতা দিয়ে দেশের প্রথম শাড়ি বুনে তাক লাগিয়েছেন এই মণিপুরী প্রশিক্ষক। এর মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
শনিবার (১৫ জুলাই ২০২৩) ঢাকা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক হলে অনুষ্ঠিত স্মার্ট বাংলাদেশ ব্যবসায়ী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ’পার্বত্য অঞ্চল সবসময় অবহেলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে একই দিনে ১০০টি সেতু ও রাস্তা উদ্বোধন করার এই সুযোগ এখন পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি। সেই অঞ্চলটি সম্পূর্ণভাবে অনুন্নত ছিল কিন্তু এখন আর অনুন্নত নাই। পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর সেসব অঞ্চলে স্কুল ও কলেজ, ব্রিজ ও রাস্তাঘাট তৈরি করে উৎপাদিত ফল যাতে বাজারজাত করতে পারে সেই ব্যবস্থা করেছি।’
বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজির প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’পার্বত্য চট্টগ্রামে এই প্রথম কলা গাছের সুতা তৈরি করে সেই সুতো দিয়ে শাড়ি তৈরি করেছে। সেই শাড়িটি তৈরি করেছে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক। সেই শাড়িটা কবে আসবে আর আমাকে কবে উপহার দিবে সে জন্য অপেক্ষায় আছে। বান্দরবান জেলা প্রশাসক এই কাজটির মাধ্যমে অনেক নারীকে সুযোগ করে দিয়েছে। পার্বত্য এলাকায় এটি সর্বপ্রথম উদ্ভাবন।’
জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি জানান, ‘আমি চলে গেলেও এখানে আমার ব্যক্তিগত কার্যক্রম চলমান থাকবে। কারণ, এখানে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বিভিন্ন নারী যুক্ত আছেন। গ্রাউস, ওয়ার্ল্ড ভিশনসহ বিভিন্ন এনজিও যুক্ত হয়েছে। তাছাড়া শুধু শাড়ি নয়, কলাগাছের সুতা থেকে ব্যাগ, পাপোস, জুতা, হাতব্যাগ, কলমদানি তৈরি করা হচ্ছে। ছেলেদের পাঞ্জাবি, ফাতুয়াসহ ঘর সাজানোর জন্য বিভিন্ন জিনিসপত্র শৈল্পিক রূপ দিয়ে বানানো হবে।’
প্রধানমন্ত্রীকে শাড়িটি কখন উপহার দিবেন সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ’কলাবতী শাড়িটি সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে গেছে। আমি এখন ঢাকায় অবস্থান করছি। আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এই শাড়িটি উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হবে।’

















