খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারা জারির মধ্যেও সড়কে নাশকতা চালাচ্ছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা

fec-image

খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারা জারির মধ্যে সকাল থেকে অবরোধের নামে বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছে জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে পার্বত্যাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী কয়েকটি সংগঠনের কর্মীরা।

তারা ১৪৪ ধারা আইন ভঙ্গ করে সহিংস অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। এদের সহিংস সড়ক অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ি জেলা থেকে দূরপাল্লার যাত্রী ও পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বাজার ও বাজারের আশপাশে কোনো দোকানপাট খোলেনি। প্রয়োজনীয় কাজে যারা বের হচ্ছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে নিরাপত্তা বাহিনী।

জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অবরোধকে ঘিরে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গতকাল খাগড়াছড়ি পৌরসভা এলাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে সহিংস ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের। তারা ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সকাল থেকে খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার রামসু বাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাস্তা অবরোধ করে গুইমারা-খাগড়াছড়ি রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে দশটায় ইউপিডিএফ কর্মী এবং সন্ত্রাসীরা এলাকার বাঙালি জনগোষ্ঠীর সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এই পর্যায়ে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, ইট-পাটকেল, গুলতি ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে সেনাবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এতে সেনাবাহিনীর ৩ জন অফিসারসহ ১০ জন সদস্য আহত হন।

সেনা সূত্রে জানা যায়, গতকাল একই সময় তারা রামগড় এলাকায় বিজিবির গাড়ি ভাঙচুর করে এবং বিজিবি সদস্যদের আহত করে। সংঘর্ষ চলাকালীন আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে রামসু বাজারের পশ্চিম দিকে অবস্থিত উঁচু পাহাড় থেকে ইউপিডিএফ (মূল) সশস্ত্র দলের সদস্যরা ৪/৫ বার অটোমেটিক অস্ত্র দিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত পাহাড়ি, বাঙালি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ১০০-১৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলে সংঘর্ষে লিপ্ত এলাকাবাসীর মধ্যে অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়। এমতাবস্থায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীর টহল দল দ্রুত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করার লক্ষ্যে উক্ত এলাকায় যায়। সেনাবাহিনীর তৎপরতায় সশস্ত্র দলটি দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। সমসাময়িক সময়ে রামসু বাজার এবং ঘরবাড়িতে ইউপিডিএফ (মূল) এর বহিরাগত দুষ্কৃতিকারীরা অগ্নিসংযোগ করে এবং বাঙালিদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রামসু বাজার এবং গুইমারা এলাকায় অতিরিক্ত সেনাদল নিয়োগ করা হয় এবং বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অভিযোগ উঠেছে, ইউপিডিএফ এবং তার অঙ্গসংগঠনসমূহ পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সুপরিকল্পিতভাবে এলাকার মহিলা এবং স্কুলগামী কোমলমতি শিশুদের বিভিন্ন পন্থায় তাদের নাশকতামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণে বাধ্য করছে। একই সাথে পার্বত্যাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংগঠনের লক্ষ্যে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে আসার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।পার্বত্য চট্টগ্রামের অখণ্ডতা, জনগণ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অনস্বীকার্য দায়িত্ব। হঠাৎ করে পাহাড়ে অস্থিরতার নেপথ্যে কারা, তাদেরকে খুঁজে বের করার তাগিদ দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে ওই কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরে ওইদিন রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় একটি ক্ষেত থেকে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শয়ন শীল (১৯) নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে ওই তরুণ পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে বলে জানা যায়। পাহাড়ের কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ধর্ষণ অভিযোগ ইস্যু সামনে এনে সড়কে নাশকতা ও সহিংতা শুরু করলে জান-মাল রক্ষায় শনিবার দুপুর ২টা থেকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ও খাগড়াছড়ি পৌরসভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে গুইমারা উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা অব্যাহত রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি, জেলা প্রশাসন খাগড়াছড়ি, বাংলাদেশ আর্মি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন