জুমের আগুনে পুড়ে ছাই তিন পরিবারের বসতবাড়ি ও সাজানো বাগান: বাঙালী বলেই পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি কেউ

Z

মো. আল আমিন, পার্বত্যনিউজঃ
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা কবাখালী ইউনিয়নের আলী নগরে গত ১৪ মার্চ (মঙ্গলবার) বিকাল ৪টায় প্রতিবেশী বৈরাগি চাকমার স্ত্রী তার নিজস্ব পাহাড়ে জুম চাষের জন্য আগুন দেয়। সেই আগুন বাতাসে চারদিকে ছড়িয়ে পরলে পাশের বসবাসরত তিন বাঙ্গালী পরিবারের পাহাড়ে সৃজিত প্রায় সাড়ে ৬ একর ফলজ, বনজ বাগান ও বসতভিটাসহ সব কিছুই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনা ঘটার সাত দিন পার হলেও সরকারী বেসরকারী কোন সংস্থা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি এবং কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করেনি বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। সরজমিনে সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেলো বর্তমানে তিনটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

জানা যায়, তিনটি পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কবাখালী ইউনিয়নের ১নং হিল ভিডিপি প্লাটুন সহকারী অফিসার মোঃ সেলিম মিয়া। তার বসতবাড়িসহ ব্যবহৃত আসবাসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়া, ২ একর বাগানের প্রায় ১০০টি কমলা গাছ , ২০টি আম গাছ , ২৫০টি কাঁঠালসহ মালটা , আপেল, আগর গাছসহ আরও বিভিন্ন ফলজও বনজ গাছ জুমের আগুনে ঝলসে যায়। মোঃ সুরুজ মিয়ার ও মোঃ জাফর, আবু সুর্ফিয়ান, মান্নান লিডার এর  প্রায় নয় একর ফলজ, বনজ বাগান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

মোঃ সেলিম মিয়া পার্বত্য নিউজকে জানান, আমার অনেক কষ্টের বিনিময়ে ২ একর সাজানো ফলজ, বনজ ও বসতভিটা প্রতিবেশি পাহাড়ীর জুমের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘর থেকে কোন কিছু বাহির করতে পারি নাই। আমি একে বারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।

বর্তমানে স্ত্রী-সন্তানাদি নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি, দেখার যেন কেউ নেই। সেলিম মিয়া আনসার ভিডিপির একজন সদস্য হওয়ার সুবাদে, শুধুমাত্র একজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি দীঘিনালা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন চৌধুরী। তার কণ্ঠেও পাহাড়ীদের প্রতি সহানুভুতির সুর।

পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ভাবে জুম চাষিরা পাহাড়ের বন-জঙ্গল কেটে আগুনে পুড়ে জুম চাষ করে, ইচ্ছা করে তো আর আগুন দেয় নাই। বাতাসের কারনে জুমের আগুন বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে বাগান বাড়িঘর পুড়ে গেছে কাউকে দোষ দেয়া যাবে না।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পাহাড়ী হলে এতোদিন তাদের পক্ষে বিবৃতি, মানববন্ধন, মিছিল সমাবেশ হতো, প্রশাসন, দেশী বিদেশী এনজিও ও দাতা সংস্থাগুলো সহানুভুতি ও টাকার থলে নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতো। টঙ ঘরের জায়গায় উঠতো পাকা/আধাপাকা ঘর। কিন্তু বাঙালী বলেই এসবের কোনো কিছুই হয়নি।  তবু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিমত সরকারি বেসরকারি দাতা সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে ক্ষতিটা কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবে।

এদিকে কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্ব কল্যান চাকমা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে একটি প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। দীঘিনালা (পিআইও) কর্মকর্তা মোঃ মোশারফ হোসেন পার্বত্যনিউজকে জানান, এখন পর্যন্ত কেউ আমাকে এই বিষয়ে কোন সংবাদ কিংবা লিখিত ভাবে অবগত করেনি। তাই এ ব্যপারে আমি অবগত নই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই মূলত খবর বা রিপোর্ট দেওয়ার কথা। কিন্তু তা এখনো কেউ তা করেনি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন