টেকনাফে ৪ মালয়েশিয়াগামী দুই বছর ধরে নিখোঁজ, স্বজনদের আহাজারি
মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, টেকনাফ:
টেকনাফের ৪ মালয়েশিয়াগামী দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে। অতি সম্প্রতি উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়ার হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামরী হামচার ছড়া এলাকায় সরেজমিন গিয়ে নিখোঁজদের মায়েদের সাথে কথা বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এরা পরস্পর আত্মীয়স্বজন। পরিবারের স্বপ্ন, কোন না কোন সময় তাদের কাছে ফিরবে নিখোঁজ ব্যক্তিরা।
সম্প্রতি থাইল্যান্ডের জঙ্গলে গণকবরের সন্ধান নিয়ে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছলে আহাজারিতে ফেটে পড়ে পরিবারসমূহ। তাদের ছেলে মেয়েদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছাঁয়া।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, গত প্রায় ২ বছর পূর্বে স্বপ্ন ও অতিরিক্ত টাকা উপার্জন করতে স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়া পাড়ি জমানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি ও পরিবার পরিজন ত্যাগ করেছিলেন সদর ইউনিয়নের নাজির দুদু মিয়া আর ছুরা খাতুনের একমাত্র সন্তান আবদুস শুক্কুর প্রকাশ বেচ্ছুয়া (৩৫) হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামরী হামজার ছড়া এলাকার মৃত ছৈয়দ আলমের ছেলে বাদশাহ মিয়া (২৯) রসুল্লাহবাদ এলাকার ফরিদ আলমের ছেলে জয়নাল (২০) লেঙ্গুরবিল এলাকার ফজল আহমদের ছেলে মো. হেলালসহ (১৮) টেকনাফ উপজেলার আরো অনেকে।
দীর্ঘ ২ বছরের অধিক সময় ধরে নিখোঁজে থাকা পরিবারে ছেলে মেয়েদের নিয়ে চলছে অভাব-অনটন এবং না খেয়ে উপোস থাকার পালা। শিক্ষা দ্বীক্ষায় পিছিয়ে রয়েছে ওইসব পরিবারের ছেলে মেয়েরা।
নিখোঁজ আবদুস শুক্কুর এর মা ছুরা খাতুন জানান, গত ২ বছর ধরে আমার ছেলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্য বাড়ি ঘর ত্যাগ করেছিল, তখন থেকে আমরা তাকে খুঁজ পায়নি। তিনি আরো জানান, আমার ছেলের বউ ও চারটি নাতি রয়েছে তাদের দিনে এক বেলা খাওয়াতে কষ্ট হচ্ছে। এলাকার মানুষের দারে কত যেতে পারে। বার বার কি তারা আমাদের দেখবে নাকি যদি আমার ছেলেটি ফিরে আসতো তাহলে সংসার চালাতে কষ্ট হতো না।
নিখোঁজ মো. জয়নালের পিতা ফরিদ আলম বলেন, টেকনাফ পৌরসভায় বাড়ির জন্য বাজার করতে গিয়ে আমার ছেলে মালয়েশিয়া পাড়ি দেবে কে জানে। তখন থেকে তার আর কোন হদিস পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতাউর রহমান খন্দকার জানান- দালাল ও মালয়েশিয়াগীদের আটক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আগের তুলনায় এ অভিযান ব্যাপক ও জোরদার করা হয়েছে।


















