‘পুরুষদের’ হার্ট অ্যাটাকের ‘আসল’ কারণ


সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় জানা গিয়েছে, পুরুষদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক বেশি হয়। কিন্তু কেন? তা কী জানেন? কেন মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের এই স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেশি? চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই আসল কারণ।
পুরুষদের তুলনামূলক ভাবে বেশি হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পিছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, পুরুষদের হার্ট অ্যাটাকের হার বেশি হওয়ার নেপথ্যে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ, মানসিক চাপ, বংশগত ব্যাধি এগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।
এক্ষেত্রে প্রধান কারণ হল ‘জীবনধারা’। বেশিরভাগ পুরুষই নিয়মিত বেশি সময় বসে কাজ করেন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন শাকসবজি এবং ফল খাওয়ার পরিবর্তে জাঙ্ক ফুডে লিপ্ত হন বেশি যা শরীরে চর্বি বৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করে।
এ কারণে হৃৎপিণ্ডে পর্যাপ্ত রক্ত চলাচল করে না। হার্টে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল মানসিক চাপ। পুরুষরা কঠোর পরিশ্রমী হওয়ার পাশাপাশি সর্বদা ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় ও মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন।
এই মানসিক চাপ হার্টের উপর আরও চাপ দেয়, যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, শোক এবং নেতিবাচক আবেগ হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি করে এবং রক্তনালীগুলিকে সংকুচিত করে।
শারীরিক নড়াচড়ার অভাব আরও একটি কারণ। বেশিরভাগ পুরুষ অফিসে কাজ করে, চেয়ারে অনেক সময় বসে ব্যয় করেন তাঁরা এবং কোনও ব্যায়াম করার সময় পান না। শারীরিক ব্যায়ামের অভাবে শরীরে চর্বি জমে যা হার্টের জন্য বিপজ্জনক।
পুরুষদের মধ্যে বংশগত হৃদরোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রাপ্তবয়স্কদের যদি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে তবে সেই সমস্যাগুলি উত্তরাধিকারসূত্রে আসতে পারে।
অর্থাৎ বাবা-মা, ঠাকুমা-ঠাকুরদা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কারও যদি হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তাদের কিন্তু হৃদরোগের প্রযোজ্য ঝুঁকি রয়েছে।
এগুলি ছাড়াও ধূমপান, অ্যালকোহল পান এবং অতিরিক্ত ওজন হার্ট অ্যাটাকের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ধূমপান হার্টের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এটি রক্তনালীগুলিকে সংকুচিত করে এবং অতিরিক্ত ওজনের কারণে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
সামগ্রিকভাবে, পুরুষদের হার্ট অ্যাটাকের কারণগুলি জীবনধারা, খাদ্য, শারীরিক ব্যায়াম, মানসিক চাপ এবং বংশগত কারণগুলির উপর নির্ভর করে।
এই কারণেই আমরা প্রতিদিন আমাদের লাইফস্টাইলের উপর ফোকাস করে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারি।

















