চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানপন্থী ছিলেন : সংবাদ সম্মেলনে হেমা চাকমা


আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে সদস্য পদপ্রার্থী হেমা চাকমা বলেছেন, আমার জাতির বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে। ছাত্রশিবির প্যানেল থেকে যখন বলা হচ্ছে যে মুক্তিযুদ্ধে চাকমাদের কোনো স্টেক ছিল না। প্রথমেই আমি আমার দায় স্বীকার করে নিচ্ছি যে চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানপন্থী ছিলেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সমগ্র চাকমারা পাকিস্তানপন্থী ছিলেন। আপনারা জানেন যে, চাকমাদের অনেক জনগোষ্ঠী আছেন যারা মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। আমাদের জাতির মধ্যে এই টেনডেন্সি ছিলো না যে, মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট কিনে বা মুক্তিযুদ্ধের নাম ভাঙিয়ে কোনো সুবিধা গ্রহণ করার। আপনারা জানেন যে, চাকমা জনগোষ্ঠী কেবল নয়, এখানে মারমা, ত্রিপুরা থেকে শুরু করে সবারই মুক্তিযুদ্ধে একটা সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, চাকমাসহ পাহাড়ি যত গোষ্ঠী আছে তারা সবাই একাত্তরপন্থী এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে। ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী ফাতেমা তাসনিম জুমা যে মন্তব্য করেছেন সেটার বিরুদ্ধে আজ স্পষ্ট করে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ কারো বাপের না।’
তিনি বলেন, ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী ফাতেমা তাসনিম জুমা যে মন্তব্য করেছেন সেটার বিরুদ্ধে আজ স্পষ্ট করে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ কারো বাপের না। মুক্তিযুদ্ধ সবার। আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, চাকমাসহ পাহাড়ি যত গোষ্ঠী আছে তারা সবাই একাত্তরপন্থী এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে।
সূত্র : ৩১ আগস্ট বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেলের সংবাদ সম্মেলনে হেমা চাকমার বক্তব্য।
উল্লেখ্য, ৩০ আগস্ট ঢাবি ক্যাম্পাসের বটতলায় একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেয়া বিভিন্ন প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থীদের এক বিতর্কে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী ফাতেমা তাসনিম জুমা মন্তব্য করেন যে, ‘মুক্তিযুদ্ধে চাকমাদের কোনো স্টেক (অংশ) ছিল না।’ তাছাড়া তিনি ওই অনুষ্ঠানে প্রশ্ন তোলেন যে, ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেও চাকমারা কেনো আজও ক্ষমা চায় নি।’ জুমার এই বক্তব্যের প্রতিবাদের বিভিন্ন প্যানেল ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা যারা ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইতোমধ্যে প্রতিবাদ জানিয়ে ব্ক্তব্য দিয়েছেন। তারা বলছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে চাকমাদের অবদান অস্বীকার করে জুমা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছেন।

















