মহাকাশে আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে চীন : বাড়ছে স্যাটেলাইট লঞ্চিং সক্ষমতা

fec-image

মহাকাশে আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাওয়াও চীনের জন্য অসম্ভব নয় বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ২০২৩ সালে চীনা কোম্পানি ল্যান্ডস্পেস বিশ্বের প্রথম মিথেন ভিত্তিক লিকুইড অক্সিজেন রকেট লঞ্চ করে যা ইলন মাস্কেরও আগে।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, চীন স্টার লিংকের বিপরীতে নিজেদের লিও কন্সটেলেশন করছে, জিপিএস এর থেকেও একুরেট বাইডও নিয়ে কাজ করছে। স্পেস কম্পিউটেশন নিয়ে কাজ করছে। জিলিন কন্সটেলেশন সহ অবাক করার মত সংখ্যায় তারা অদ্ভুত প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। চীন মহাকাশ প্রযুক্তিতে কপিক্যাট নেই। তারা নতুন উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। চীনের স্যাটেলাইট লঞ্চিং সক্ষমতাও এখন অকল্পনীয় ভাবে বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামনের দিনগুলিতে আমেরিকার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলে অথবা মহাকাশে আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাওয়াও চীনের জন্য অসম্ভব নয়। লো অরবিটে চীন ৪৩ হাজার স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনার উদ্দেশ্য অস্পষ্ট নয়। লো অরবিটের স্লট দখলে আমেরিকা চীনের এক প্রকার নিরব প্রতিযোগিতা চলছে।
চীন হাইনান প্রদেশ থেকে নতুন প্রজন্মের অধিক সক্ষমতার কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট লঞ্চ করেছে অরবিটে। এটা চীনের লং মার্চ সিরিজ রকেটের ৫৭৭ তম মিশন।

চীন দুই দিন আগে সোমবার CERES-1(সেরেস-১) ক্যারিয়ার রকেট লঞ্চ করেছে তাও জাহাজ থেকে অফশোর লঞ্চ। এটা বেশ বড় সফলতা। আর এটি চীনের সেরেস-১ রকেটের ২০তম মিশন। জাহাজ থেকে রকেট উৎক্ষেপণ করে চীন ৪টি LEO (লিও) স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। এটা চীনের তিয়াঞ্চি ইন্টারনেট অফ থিংস এর ৩৭টি স্যাটেলাইট সংখ্যায় দাড়ালো।

গত ১৫ মে মাত্র ৬ দিন আগে চীন সর্বপ্রথম স্পেস কম্পিউটিং কন্সটেলেশন এর জন্য স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে, যেটাকে বলা হচ্ছে মহাকাশের সুপারকম্পিউটার প্রজেক্ট।

তিন পার্টের স্পেস কম্পিটেশনাল এই কন্সটেলেশন প্রজেক্টে চীন ২৮০০ স্যাটেলাইট পাঠাবে যা শেষ হয়ে চীনের মহাকাশের সুপারকম্পিউটারের ডাটা প্রসেসিং ক্ষমতা হবে ১০০০ POPS বা পেটা অপারেশন পার সেকেন্ড। গতবছরের সবথেকে ফাস্ট সুপারকম্পিউটার ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার এল ক্যাপিতান সিস্টেম যেটা ১.৭২ পপস ডাটা প্রসেস করতে পারে। গত ১৭ মে চীন নতুন প্রযুক্তির মিথেন পাওয়ারড রকেট লঞ্চ করে ৬টি স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। এই রকেটগুলি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য।

চীনের চুতিয়ান কন্সটেলেশন নিয়ে সিরিয়াস কনসার্ন জানিয়েছে আমেরিকা। এই প্রজেক্টে চীন বুলেট শেপের ৩০০ VLEO বা ভেরি লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট পাঠাচ্ছে যা উচ্চ রেজুলেশনের ছবি নিতে সক্ষম এবং ফাস্ট ডাটা ট্রান্সফার ও গ্লোবাল সার্ভিলেন্স করতে সক্ষম যেটাকে ইউএস হুমকি হিসাবে দেখছে।

২০২৫ সালে সারাবিশ্বের সব দেশ মিলিয়ে ৩০০ রকেট লঞ্চ করতে পারে। এর ভেতর আমেরিকা থেকে স্টার লিঙ্কের রকেট লঞ্চ বেশি লঞ্চ হবে৷ এই এই ৩০০ এর ভেতর চীনের টার্গেট ১০০ এর বেশি রকেট লঞ্চ করা। অর্থাৎ প্রতি ৩ দিনে একটা করে রকেট পাঠানোর টার্গেট চিনের। শুধু জানুয়ারির ৭ তারিখ চীন ২৫ টি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠায়। জানুয়ারি মাসেই মানুষ্যবাহী স্পেস মিশন রকেট পাঠায়। জানিয়ারির ২৩ তারিখে চীন আরো ১৮ টি স্যাটেলাইট পাঠায়।

২০১০ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চীন মোট রকেট লঞ্চ করেছিল ২০৭ টা যার ভেতর শুধু ২০১৮ ও ১৯ সালে এক পঞ্চমাংশ লঞ্চ করেছে। ২০১৮ তে ৩৮টি রকেট লঞ্চ থেকে শুরু। ওই সময়ে সম্ভবত চীনের ভবিষ্যত স্ট্রাটেজিতে পরিবর্তন আসে এবং স্যাটেলাইট টেকনোলজিতে ব্রেকথ্রু এচিভ হয়।

আর এই সামগ্রিক ক্ষেত্রে চীনের ইন্টেলিজেন্স গ্যাদারিং, রিডানডেন্ট সিকিউর ডাটা ট্রান্সমিশন, হাই স্পিড ডাটা ট্রান্সফার (স্ট্রার লিংক থেকে কয়েক গুন বেশি গতিসম্পন্ন), সামরিক এপ্লিকেশনসহ একটা নতুন মহাকাশ যুদ্ধে পিছিয়ে নেই। একারণেই এই রেসে রাশিয়া ছিটকে পড়াতে রাশিয়াকে এখন আর দ্বিতীয় বৃহৎ শক্তি বলা যায় না।

খুব সম্ভবত ভারত বিষয়টি ভাল ভাবে অনুধাবন করেছে। এবছর ভারতের সম্ভাব্য রকেট লঞ্চের সংখ্যা ১০-১৫ টি। এর ভেতর এই সপ্তাহে ভারতের PSLV রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হয়েছে এবং রকেটে বহন করা স্যাটেলাইট হারিয়ে গেছে। এই ব্যর্থ হবার পেছনে বিশ্লেষকরা ধারনা করছেন ভারত নিজেও নতুন নতুন টেকনোলজির দিকে ঝুকছে এবং ট্রায়াল এন্ড এরর বেসিসে আগাতে চলেছে।

সবথেকে বড় দু:খের বিষয় আমাদের দেশে আমরা তর্ক করি, স্যাটেলাইট বলে কিছু নেই। চোখে দেখা যায়না। স্যাটেলাইট পাঠায় লাভ কি মোবাইল বিলের দাম তো কমে না। পাঠিয়েছে কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট, পাঠানোর দরকার ইমেজিং স্যাটেলাইট। এই কথাগুলি বলার উদ্দেশ্য আমরা চিন্তা ভাবনায় কতটা পিছিয়ে পড়ছি সেটা অনুধাবন যদি এক দুজন ও করে তবে সেটাই একটা পজিটিভ সাইন।

উৎস : ডিফেন্স নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: চীন
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন