মাটিরাঙ্গায় শিক্ষকদের গ্রুপিংয়ে ধরাশায়ী ‘মাটিরাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’
মাটিরাঙ্গা সংবাদদাতা :
আজ শনিবার ঘোষিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় শিক্ষকদের গ্রুপিংয়ের কারণে ফলাফলে ধরাশায়ী হয়েছে মাটিরাঙ্গা উপজেলা একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘মাটিরাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’। উপজেলার মফস্বলের পিছিয়ে পড়া বিদ্যালয়গুলো যখন ফলাফলে চমক সৃষ্টি করেছে তখন ‘মাটিরাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ এর এমন ফলাফলে হতাশ অভিভাবক মহল।
সারাদেশে যখন জিপিএ-৫ এর ছড়াছড়ি তখণ উপজেলা সদরের এ প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেনি। এ বিদ্যালয় থেকে ৭৪ শিক্ষার্থী এবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৫৮ জন। গড় পাশের হার ৭৮ শতাংশ। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ১১ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৩৭ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন ‘এ’ , ১৩ জন এ মাইনাস, ২০ জন ‘বি’, ১৩ জন ‘সি’ ও ১ জন শিক্ষার্থী ‘ডি’ গ্রেড পেয়েছে।
ফলাফল ঘোষনার পর যখন সর্বত্র মিষ্টি খাওয়ার হিড়িক চলছে তখন এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী পর্যন্ত কারো কোন ধরনের উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। এমনকি ফলাফল ঘোষনার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে প্রতষ্ঠানে অনুপুস্থিত বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: কামাল হোসেন। ফলাফল জানার জন্য তাকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এদিকে বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষার্থী কেন জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবুল হাশেম। তবে বিদ্যালয়ের ফলাফল খারাপ হয়েছে এমন বক্তব্য মানতে নারাজ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবুল হাশেম।
একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদান করালেই তো তারা ভালো ফলাফল করবে। এ বিদ্যালয়ে পাঠদান নয় সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাইভেট পড়ানো শিক্ষকদের অন্যতম কাজ। তারা এ ফলাফলের জন্য বিদ্যালয়ে পাঠদান না করানোর পাশাপাশি শিক্ষকদের গ্রুপিংকেও দায়ী করেন। তারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে এক সময় প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থী শুন্য হয়ে পড়বে।


















