নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে

মিয়ানমারে ফেরত গেল ১৫টি তঞ্চঙ্গ্যা পরিবার

fec-image

মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘাতময় পরিস্থিতে সাময়িকভাবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ৭১ জন তঞ্চঙ্গ্যা ( নৃ-গোষ্ঠী) স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেলেন । তারা সবাই ১৫টি তঞ্চঙ্গা পরিবারের সদস্য ছিল । এদের মধ্যে নারী-পুরুষ ও শিশু রয়েছে।

আজ বুধবার ২৩ জুলাই ও গতকাল ২২ জুলাই ২ দিনে এদেরকে ফেরৎ পাঠায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ৩৪ বিজিবি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম খায়রুল আলম পিএসসি।

তিনি বলেন, ৩৪ বিজিবির তত্ত্বাবধানে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে তাদেরকে প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

বিজিবি সূত্র আরো জানায়, ২২ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রথম দফায় ১০টি পরিবার এবং ২৩ জুলাই (বুধবার) দ্বিতীয় দফায় আরও ৫টি পরিবার ফিরে যায়। দুই দিনে মোট ৭১ জন তঞ্চঙ্গ্যা সীমান্ত পিলার ৩৭-এর ‘আমবাগান’ এলাকা দিয়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করেন।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘর্ষের ফলে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বেশ কয়েকটি তঞ্চঙ্গ্যা পরিবার বাংলাদেশে পালিয়ে এসে ঘুমধুমের বাইশফাঁড়ী তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ায় আশ্রয় নেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিজ এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

প্রত্যবর্তনকারী পরিবারগুলোর তালিকায় রয়েছেন: ২২ জুলাই (মোট ৪৮ জন): ওমাংচিং, ওচিংদা, মানিক্কা, মংবো, মংপুচা, কিংলা, চাতাই মং, উথায়লা, লাচেং ও মংচু তঞ্চঙ্গ্যা।
২৩ জুলাই (মোট ২৩ জন): মংয়েছা, মংয়েথুয়াইং, কিংলা থুয়াইং, চিংলা প্রু ও গাইতসার তঞ্চঙ্গ্যা।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের ৩৪ বিজিবির তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছায় প্রত্যবর্তন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে এবং সম্মানজনক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব পরিবার নিজ ইচ্ছায় স্বদেশে ফিরে গেছে, তাদের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।

এ দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তাকে ৩৪ বিজিবি বিষয়টি
জানিয়েছে, তাদেরকে যে পাড়াতে তারা অবস্থান করছে, সেখান থেকে বের হতে গ্রামবাসী সহায়তা করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ৭০ জন মিয়ানমার নাগরিক সে দেশে প্রত্যাবাসন করা মানে বাংলাদেশের মাথা থেকে একটি বোঝা কমে যাওয়া।
সুতারাং এ কাজটি দেশের জন্য খুবই কল্যাণকর। তারা ৩৪ বিজিবিকে এ কারণে সাধুবাদ দেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: তুমব্রু, নাইক্ষ্যংছড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন