রাঙামাটিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হয়েছে ১৮দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি :
পর্বত বেষ্টিত রাঙামাটিতে আঠারো দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ পালিত হয়েছে কড়া হরতালের মতো। সাপ্তাহিক হাটবার হওয়া সত্বেও নজিরবিহীনভাবে রাঙামাটিতে পালিত হয়েছে টানা ৬০ ঘন্টা অবরোধের দ্বিতীয় দিন। বুধবারের অবরোধে রাঙামাটি শহরের প্রতিটি পয়েন্টে হরতালের সমর্থনে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়। বলতে গেলে সারাদিনই খন্ড মিছিল আর সমাবেশের মাধ্যমে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের দখলে ছিলো পাহাড়ি জেলা পার্বত্য শহর রাঙামাটি।
অবরোধের সমর্থনে কড়া পুলিশী বেষ্টনীর মধ্যে রাঙামাটি শহরের কলেজ গেইট এলাকায় বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে অবরোধের সমর্থনে পিকেটিং ও বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক যুগ্ন জেলা জজ এডভোকেট দীপেন দেওয়ান। এসময় তারা নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে বিএনপির দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচিতে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বুধবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পিকেটিং করে বিএনপির কর্মী সমর্থকরা। দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষোভের পর সমাবেশে বিএনপির নেতারা তত্বাবধায়ক সরকারের দাবী জানান।
কলেজ গেটের সমাবেশে বিএনপি জেলা সভাপতি দিপেন দেওয়ানের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, এজাজ নবী রেজা, দেব জ্যোতি চাকমা, শ্বাশ্বত চাকমা রিংকু, বিএনপি নেতা বাচ্চু মিয়া, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সুজন, ছাত্রনেতা সেলিমসহ অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে অবরোধের সমর্থনে বুধবার সকালে শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা বনরূপা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি-জামায়াতসহ আঠারো দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। বিএম মার্কেটের সামনে থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্বদেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির, পৌর জামায়াতে এসিসটেন্ট সেক্রেটারি এডভোকেট হারুনুর রশীদ হারুন ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আযম শফি। এসময় বিএনপি ও অংগ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিলো অন্যদিনের তুলনায় বেশি।
শহরের পৌরসভা চত্বরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে অবরোধের সমর্থনে পিকেটিং করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলমসহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। শহরের তবলছড়ি এলাকায় টানা ৬০ ঘন্টা অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপিসহ যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এসময় মিছিলের নেতৃত্বদেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক ও থানা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ চৌধুরী, বিএনপি নেতা আব্দুল কাদের, জেলা যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল, জেলা তৃণমুল দলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু সাদৎ মোঃ সায়েমসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া কাঠাঁলতলী এলাকায় সর্বাতœকভাবে অবরোধের সমর্থনে পিকেটিংয়ে অংশ রাঙামাটি সদর থানা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম রাজু, মোঃ কামাল উদ্দিন, যুবদল নেতা আব্দুর রহিম, ছাত্রনেতা হাবিব, জাবেদ ইকবালসহ ছাত্র ও যুবদলের বেশ কিছু নেতাকর্মী। তারা অবরোধের সমর্থনে সম্বিলিতভাবে পিকেটিং করে।
শহরের দোয়েল চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে, আঠারোদলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। বুধবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই মিছিলের নেতৃত্বদেন আব্দুল গণি মজুমদার, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাক আবু নাছির, মোঃ আলী, মোশারফ হোসেন ফয়সাল, সোহাগ, ঝন্টুসহ অংগসহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারেও অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আঠারো দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। বুধবার সন্ধ্যায় এই বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন ও পৌর যুবদলের সভাপতি ইউছুপ চৌধূরী, বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজসহ আঠারো দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ। রিজার্ভ বাজারের লঞ্চঘাট থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌমূহনী চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়।
রাঙামাটি শহরের ষ্টেডিয়াম এলাকায় টানা ৬০ ঘন্টা অবরোধের সমর্থনে পিকেটিং ও বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্বদেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি দেবজ্যাতি চাকমা, শ্বাশত চাকমা রিন্টু, শাহিনুর রহমান শাহিন, সাবেক ছাত্রনেতা আরিফ, মোস্তাক আহম্মেদ টিপু, সেলিমসহ সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বুধবারের অবরোধের সমর্থনে শহরের প্রবেশমুখ মানিকছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদলসহ অংগসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এখানে বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিংয়ে নেতৃত্বদেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম তালূকদার, ছাত্রনেতা আলমগীর, আবু বক্কর, ইউছুপসহ অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
১৮ দলের ঢাকা ৬০ ঘন্টার অবরোধের দ্বিতীয়দিনেও পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অবরোধ ডাকা হলেও শহরে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল সম্পূর্ন বন্ধ থাকার ফলে হরতালে পরিণত হয়েছে। অবরোধের কারণে রাঙ্গামাটি থেকে দূরপাল্লার কোন প্রকার যানবাহন ও উপজেলাগুলোতে লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। নাশকতা এড়াতে শহরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া অবরোধের সমর্থনে শহরের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও দলবদ্ধভাবে পিকের্টি করে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এছাড়া বুধবার সাপ্তাহিক হাট বার হওয়াতে দুর-দুরান্ত থেকে ক্রয়-বিক্রয় করতে আসা প্রান্তিক জনগোষ্ঠির দুর্ভোগ ছিলো লক্ষণীয়।



















