রাঙ্গামাটিতে উষাতন তালুকদার‘র দশ দফা নির্বাচনী ইশতেহার
মুজিবুর রহমান ভুইয়া :
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয় স্থান অধিকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য রাঙ্গামাটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী উষাতন তালুকদার প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ভোটের মাঠে না থাকায় বিজয়ের লক্ষ্যকে সামনে রেখে জেলা সদর থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপজেলায় অবিরাম নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সামাজিক গণ-যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে “উষাতন তালুকদার সমর্থক ফোরাম ” নামে একটি আইডি খুলে সেখান থেকেও নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে তার পক্ষে। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান এবং এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে জোরালো উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্প্রতি উষাতন তালুকদার নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন।
পার্বত্য রাঙ্গামাটিতে ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনিই প্রথম ১০ দফা সম্বলিত নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করলেন। ইতিমধ্যে জেএসএসের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রনতি বিকাশ খীসাকে প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে। উষাতন তালুকদারের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়, আওয়ামীলীগ সরকার শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়ন করেনি। আঞ্চলিক পরিষদ আইন ও পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন কার্যকর করেনি। পার্বত্য ভুমি কমিশন আইন নিষ্পত্তি না হওয়ায় এখানকার অধিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তহীনতা বিরাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে তথা রাঙ্গামাটিতে উগ্র জাতীয়তা, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে, মুখ থুবড়ে পড়ে আছে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন। চুক্তি বাস্তবায়ন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে দেশে গনতান্ত্রিক ও অসম্প্রদায়িক চেতনার সরকার প্রতিষ্ঠা করা জরুরী।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, ইতিপুর্বে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা দল বা ব্যাক্তি স্বার্থে জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রামের কথা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রয়াত মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার উত্তরসুরী হিসেবে মহান জাতীয় সংসদে কথা বলতে উষাতন তালুকদার রাঙ্গামাটির জনগনের কাছে ‘হাতি’ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। এলাকায় সুষম ও পরিবেশমুখী উন্নয়নের ধারা গড়ে তোলার মাধ্যমে সুযোগ-বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অনুকুল পরিবেশ গড়ে তোলা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপন এবং স্থানীয়ভিত্তিক বাণিজ্য প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে। এছাড়াও সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদী অপতৎপরতা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূলীকরণে দেশের গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল শক্তির সাথে একাত্ম হয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করার অঙ্গীকারও করেন তিনি। নারীদের উপর সকল প্রকার সহিংসতা ও নিপীড়ন বন্ধে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে উল্লেখ করে ইশতেহারে বলা হয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রে নারীর সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে। আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ ও স্বকীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।
শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিও লক্ষ্যে রাঙ্গামাটি সরকারী কলেজে অনার্স ও স্নাতকোত্তর কোর্সের সংখ্যা বৃদ্ধি করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহ পার্বত্যাঞ্চলে কারিগরী শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে ভোকেশনাল ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে ঘোষিত ইশতেহারে। এছাড়াও কাপ্তাই হ্রদের জলসীমা নির্ধারণ ও জলেভাসা কৃষি জমির চাষাবাদ নিশ্চিত করাসহ হ্রদের পানির উচ্চতা হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণসহ কৃষি ঋণের ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে।
এদিকে তার ঘোষিত ইশতেহার রাঙ্গামাটির ভোটারদের মাঝে কতটা প্রভাব তৈরী করতে পেরেছে তা বোঝা না গেলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার ঘোষিত ইশতেহার ‘নৌকা’য় যে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে তা বোঝা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দীপঙ্কর তালুকদার‘র ‘নৌকা’ উষাতন তালুকদারের ‘হাতি’র ধাক্কা সামলে নিতে পারে কিনা তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৫ জানুয়ারীর মধ্য রাত পর্যন্ত।



















