রামুতে বন্যায় সড়ক ভেঙে পুকুর: ব্যক্তি উদ্যোগে সাঁকো
নিজস্ব প্রতিনিধি:
ভয়াবহ বন্যায় সড়ক পরিণত হয়েছে পুকুরে। যে কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছিল হাজার-হাজার মানুষ। বন্যায় বিলীন হওয়া ওই সড়কে ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত একটি সাঁকো দূর্গত মানুষের দূর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব করেছে।
কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের নয়াপাড়ায় পুরনো রাজারকুল-চেইন্দা সড়কে সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগ ও অর্থায়নে সাঁকোটি তৈরী করেছেন, স্থানীয় বাসিন্দা রাজারকুল আজিজুল উলুম মাদ্রাসার নির্বাহী পরিচালক মাওলানা মুহছেন শরীফ।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় রাজারকুল-চেইন্দা সড়কের নয়াপাড়ায় ১২০ ফুটের বেশী অংশ বাঁকখালী নদীর প্রবল স্রোতে ভেঙে গেছে। আকস্মিকভাবে সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকার চারটি বসত ঘর সম্পূর্ণভাবে পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ২০টি বসত বাড়ি। বন্যা কবলিত হয়েছে রাজারকুল এবং পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নয়াপাড়ার এলাকার বাসিন্দা নবী হোছন এবং জালাল আহমদ জানান, তাদের বাড়ির সামনের এ সড়কের বিশাল অংশ বন্যায় বিলীন হয়ে গভীর জলাশয়ে রূপ নিয়েছে। ওই এলাকার আশপাশে কোন সড়ক বা চলাচলের উপযোগী জমি না থাকায় পুরো ইউনিয়নের লোকজন চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলো। অনেকে বাধ্য হয়ে সড়কের এ অংশ নৌকা দিয়ে পারাপার করেছেন। তারা আরো জানান, এলাকার প্রচার বিমুখ সমাজসেবক মাওলানা মোহছেন শরীফ তাদের দূর্ভোগ লাঘবে ওই স্থানে একটি সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছেন। একারণে তাদের মতো অসংখ্য মানুষ চলাচল করতে পেরে আনন্দিত।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৮জন শ্রমিক ভেঙ্গে যাওয়া সড়কে সৃষ্ট গভীর জলাশয়ে সাঁকো তৈরীর কাজ করছেন। আর এসব কাজ তদারক করছিলেন, সাঁকো তৈরীর উদ্যোক্তা মাওলানা মোহছেন শরীফ।
আলাপকালে মাওলানা মোহছেন শরীফ জানালেন, এমন ভয়াবহ বন্যা এ এলাকার মানুষ আগে কখনো দেখেনি। এ ইউনিয়নে বন্যায় অনেক বসত ঘর, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মৎস্য ও পোল্ট্রি খামার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এলাকার একমাত্র সড়কটি ভেঙ্গে জলাশয়ে রূপ নেয়ায় অবর্ণনীয় জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই দূর্গত লোকজনের চলাচলের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় রেখে তিনি নিজে এটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। সাঁকোটি তৈরীতে ৮-১০ জন শ্রমিক ৬দিন কাজ করেছেন। সাঁকোর জন্য বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিদিন তিনি নিজে তদারক করে নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পেরেছেন। এখন বন্যা দূর্গত লোকজনকে আর নৌকা ভাড়া দিয়ে পার হতে হয়না। কিছুটা হলেও কমেছে যাতায়াতের বিড়ম্বনা। এতেই তিনি তৃপ্ত হচ্ছেন।
মাওলানা মোহছেন শরীফ আরো জানান, জরুরী ভিত্তিতে বিলীন হওয়া সড়কটি সংস্কার না করলে জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে। বিশেষ করে পুরো বর্ষা মৌসুমে রাজারকুল ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন নদীর পানিতে নিমজ্জিত থাকবে। এতে এ দুটি বৃহৎ ইউনিয়নের হাজার হাজার একর কৃষি জমি অনাবাদি হয়ে পড়বে। থমকে যাবে আশপাশের ৫টি ইউনিয়নের লাখো মানুষের চলাচল।
রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম জানিয়েছেন, সরকারের পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবায় এভাবে উদ্যোমী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরো জানান, বন্যায় রাজারকুল সহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। দূর্গত এলাকায় তিনি ত্রান তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় রাজারকুল ইউনিয়নের নয়াপাড়া এবং দেয়াংপাড়া এলাকায় সড়ক ভেঙ্গে পুরো ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে। এতে দূর্গত হাজার হাজার মানুষ এখনো ত্রাণ সামগ্রীর অভাবে মানবেতর সময় পার করছে।


















