৯ কূটনৈতিক মিশনের যৌথ বিবৃতি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ খুঁজতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

fec-image

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ খুঁজে বের করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত নয়টি কূটনৈতিক মিশন।

রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২৫ আগস্ট) নয় কূটনৈতিক মিশনের এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানায়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আট বছর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কারণে রোহিঙ্গাদের ব্যাপকভাবে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকার এবং বাংলাদেশের জনগণের চলমান উদারতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই, যারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও নিরাপত্তা প্রদান করছে, নতুন আগতদের আশ্রয়, তাদের আতিথেয়তা এবং জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা প্রদানসহ।

বাংলাদেশে অবস্থান করা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে চায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রত্যাবাসনের পথ খুঁজে বের করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সীমান্তবর্তী স্থানচ্যুতি অব্যাহত রয়েছে, রাখাইনে অনেক রোহিঙ্গা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত রয়েছে এবং মিয়ানমারের পরিস্থিতি বর্তমানে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবর্তনের অনুমতি দেয় না। এ পরিস্থিতিতে কেবল তাদের বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ মোকাবিলা করেই সমাধান করা যেতে পারে। যার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ এবং স্থিতিশীল মিয়ানমার প্রয়োজন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আমরা স্বীকার করি যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য একটি সময়সীমা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি এবং সব পক্ষকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছি। আমরা সামরিক শাসন এবং অন্যান্য সশস্ত্র পক্ষের দ্বারা সংঘটিত ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানাই।

সব সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার এবং নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন মানবিক প্রবেশাধিকারের জন্য আমাদের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করি। আমরা সামরিক শাসনকে অন্যায়ভাবে আটক হওয়াদের মুক্তি দেওয়ার জন্য আমাদের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করি। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন এবং অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থনে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আসন্ন উচ্চ-স্তরের সম্মেলনসহ মিয়ানমারের পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশে সম্পর্কিত মানবিক সংকটের ওপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব। আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আরও টেকসই সমাধানের পক্ষে, যেমন- রোহিঙ্গাদের জন্য স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি করা, বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক তহবিল হ্রাসের আলোকে, একইসঙ্গে শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রস্তুত করা।

আমরা রোহিঙ্গাদের অর্থপূর্ণ সম্পৃক্ততা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছি, যাতে তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং বাংলাদেশে থাকাকালীন নিরাপদ, উদ্দেশ্যমূলক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে সক্ষম হয়। আট বছর পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে। আমরা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধান খুঁজতে এবং এর মূল কারণগুলো সমাধান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিবৃতি দেওয়া কূটনৈতিক মিশনগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন