“লাশঘর” নাই কুতুবদিয়া থানায়


কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানায় “লাশঘর” নাই। মরদেহ মর্গে প্রেরণের আগ মূহুর্তে রাখার জন্য পরতে হয় নানা বিড়ম্বনায়। দেশের অনেক থানায় মরদেহ রাখার জন্য থানা কম্পাউন্ডে লাশঘর রয়েছে। প্রত্যন্ত দ্বীপে থানা প্রতিষ্ঠার ১০৮ বছর পার হলেও লাশঘর নির্মাণ হয়নি। ১৯১৭ সালে কুতুবদিয়া থানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২২ মার্চ সন্ধ্যায় কক্সবাজারের বাসিন্দা উপজেলার আলী আকবর ডেইল তাবালের চরে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে এসে আব্দুল হামিদ নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হলে তার মরদেহ ওইদিন জেলা সদরে মর্গে পাঠানো সম্ভব হয়নি । রাতে থানার নীচ তলাতে রেখে পাহারা দিতে হয় পুলিশ ও স্বজনদের। এমনটা হয় অসময়ে উদ্ধার হওয়া সব মরদেহের বেলায়।
থানার পুরাতন ভবন ভেঙে ৩ তলা বিশিষ্ট বিশাল বাজেটে থানা ভবন নির্মিত হলেও করা হয়নি লাশ রাখার জন্য আলাদা ঘর। বিভিন্ন কারণে মর্গে প্রেরণের জন্য মরদেহ সকালে উদ্ধার হলে তা ১’শ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়ে থাকে। যা শুধু সময় নয়,আর্থিক ব্যয়ও বটে। যদি কোন লাশ দুপুরের পর উদ্ধার হয় সেটি ওই দিন কক্সবাজারে প্রেরণের সুযোগ থাকেনা। ফলে থানার নীচ তলায় খোলা মেঝেতে ঠাঁই হয় হতভাগা মরদেহের। এতে শেয়াল বা কুকুরের অতর্কিত আক্রমনের ভয়ে পুলিশ ও মরদেহের অভিভাবকদের পাহারায় নিয়োজিত থেকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। নির্ধারিত লাশঘর থাকলে নিরাপত্তার মধ্যে রেখে পরদিন জেলা সদরে প্রেরণ করা যেত।
কুতুবদিয়া চৌকি আদালতের এ্যাডভোকেট এস এম সাইফুল্লাহ খালেদ বলেন, উপজেলা হাসপাতালে হিমঘর নাই। থানা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সময় পার হলেও অপেক্ষমান মরদেহ রাখার জন্য লাশঘর নির্মাণ না হওয়া দু:খজনক। এটি একটি গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়। যতদ্রুত সম্ভব সরকার থানা কম্পাউন্ডে লাশঘর স্থাপন করবেন- এ দাবি জানান তিনি।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মাহবুবুল আলম বলেন, দেশের সব থানাতেই লাশঘর থাকার কথা। কুতুবদিয়া থানায় নেই। ঝুঁকিপূর্ণ দ্বীপ এলাকায় ময়নাতদন্তের সুযোগ নেই। উদ্ধার করা মরদেহ বিকাল বা রাতের বেলায় প্রেরণের সুযোগ নেই। বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সাথে উর্ধতন কৃর্তপক্ষের নজরে আনবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে বিষয়টি নলেজে না থাকার কথা জানিয়ে কক্সবাজার পুলিশ সুপার এ. এন. এম সাজেদুর রহমান বলেন, লাশঘর থানার অংশ নয়। যে কারণে দেশের সব থানায় নেই। এটি সাধারণত: কোন সংস্থার মাধ্যমে বা স্থানীয় ভাবে নির্মাণ করে নিতে হয়। তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।

















