মানিকছড়িতে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি জবরদখল করে নিয়েছে আ.লীগ নেতা

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:
খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ির দক্ষিণ একসত্যাপাড়ার গোপীনাথের বাগানসহ তিন একর জমি জবরদখল করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জব্বার। দুদিন ধরে প্রকাশ্যে বাগানের শতাধিক গাছ কেটে নিলেও পুলিশের সহযোগিতা পায়নি সংখ্যালঘু পরিবারটি। ফলে এ নিয়ে এলাকায় সংখ্যালঘু মহলে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরজমিনে এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার তিনটহরীর আদি ব্যবসায়ী গোপীনাথের বাজারের একজন কাপড় ব্যবসায়ী। ১৯৮৪ সালে দক্ষিণ একসত্যাপাড়ার জনৈক লাহাপ্রু মগ বাবা, কংহ্লাপ্রু মগ এর ৯২নং হোল্ডিং ৫ একর তৃতীয় শ্রেণীর জমি হতে ৩ একর জায়গা ক্রয়সূত্রে মালিক হন। যা পরে মিউটেশন মামলা নং ৩৭/৯৯ নামজারি মামলা মূলে রেকর্ড সংশোধন করা হয়। ওই জমিতে গোপীনাথ বিভিন্ন মূল্যবান গামারি, আকাশমনি, বেলজিয়াম গাছের বাগান সৃজন করে ভোগদখল করে আসছিলেন।
২০০৪ সালে হঠাৎ পার্শ্ববর্তী মো. খোরশেদ আলম দু’ একর জমি জোর করে রাতের আঁধারে দখল করে ঘর তুলে বসতি স্থাপন করেন। এ ব্যাপারে গোপীনাথ খাগড়াছড়ি আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন। গত ২০০৮ সালের ৯ জানুয়ারি আদালত ওই জায়গা গোপীনাথের বলে রায় দেয়। এতে বিবাদী ক্ষিপ্ত হয়ে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন এবং তাতেও তিনি হেরে যান। পরে আবারও বিবাদী খোরশেদ আলম উচ্চ আদালতে আপিল করেন যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু দু একরের মামলা শেষ হতে না হতে সম্প্রতি খোরশেদ আলম এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জব্বার ও তার ছেলে বেলাল হোসেনকে নিয়ে গোপীনাথের রেকডীয় বাকি এক একর জমি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে।
১০ম সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী চক্রের সহযোগিতায় পূর্বের বিবাদীসহ আওয়ামী নেতা আবদুল জব্বার এবং তার তিন ছেলে গত ১৭ জানুয়ারি দিনের বেলায় বাগানে সৃজিত শতাধিক গাছ কেটে সাবাড় করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে গোপীনাথ সরজমিনে গিয়ে বাধা দেন। কিন্তু এতে প্রভাবশালী চক্রটি গোপীনাথকে মারতে তেড়ে আসে। পরে গোপীনাথ থানায় এসে বিষয়টি লিখিতভাবে পুলিশকে অবহিত করে। পুলিশ বিষয়টি দেখবে এবং কেটে ফেলা গাছ কেউ নেবে না বলে গোপীনাথকে আশ্বস্ত করে। কিন্তু না প্রভাবশালীরা অনায়াসে গাছ কেটে ডাল-পালা ও পাতাসহ সব চিহ্ন তুলে নিয়ে যায়। এখন সেখানে শুধু গাছের গোড়া ছাড়া কিছুই নেই। এতে গোপীনাথ ও তার পরিবারে আতঙ্ক নেমে আসে।
গত বৃহস্পতিবার গোপীনাথ আবারও থানায় এসে পুলিশের শরণাপন্ন হয়। পরে থানার এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গোপীনাথ তার সৃজিত বাগানের লুটে নেয়া গাছের পাশে বসে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের দায়ী করে বলেন, আমি সংখ্যালঘু পরিবারের লোক হওয়াতে আমার সব কেড়ে নিয়েছে ওরা!
এদিকে শুক্রবার বিকালে মানিকছড়ি থানায় ৫ জনকে আসামি করে মামলা দেয়া হয় এবং মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জাব্বারের ছেলে বেলালকে রাতে আটক করা হয়। সূত্র: আমারদেশ অনলাইন।

















