নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে উচ্ছেদ হওয়া ২৬ পরিবার আটক

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি :
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের উত্তর বড়ুয়া পাড়া থেকে অবৈধভাবে বসবাস করে আসা জায়গা থেকে উচ্ছেদ হওয়া ২৬ পরিবার মায়ানমারে যাওয়ার সময় আটক করেছে বিজিবি।
রোববার (১১জানুয়ারি) দুপুরে তারা সীমান্ত দিয়ে ওপারে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। বিজিবি খবর পেয়েই তাদের বাধা দেয়। বর্তমানে তাদের স্থানীয় চেয়ারম্যান একে এম জাহাঙ্গীর আলমের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এর আগে শনিবার ঘুমধুম ইউনিয়নের উত্তর ঘুমধুম বড়ুয়া পাড়া থেকে অবৈধ ভাবে বসবাস করে আসা ৫৫ পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এদের মধ্যে ২৬ পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রোববার মায়ানমারে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ উত্তর ঘনধুম বড়য়া পাড়ায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ৫৫ পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা সুব্রত বড়ুয়া ও তার স্ত্রী নিশু বড়ুয়া ২০১০ সালে কৃষি ব্যাংক অর্থ ঋণ আদালত থেকে ২৫ একর জমি দীর্ঘমেয়াদী লিজ নেন। তুম্রব্র মৌজার সিট নং-৪ প্লট নং-১৮৮৩ আন্দরের ঐ জায়গায় ৫৫ পরিবার অবৈধ ভাবে বসবাস করে আসছিল। জায়গাটি বুঝে পাওয়ার জন্য আদালতে উচ্ছেদ মামলা করেন সুব্রত বড়ুয়া। জেলা যুগ্ম জজের আদালত জায়গাটি বুঝিয়ে দিতে প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করলে আদালত শনিবার সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালায়।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু শাফায়াৎ মুহম্মদ শাহেদুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে লীজ গ্রহীতা সুব্রত বড়ুয়াকে জায়গাটি বুঝিয়ে দিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। পরিবারগুলোকে আদালত থেকে আগে নোটিশ দেয়া হয়েছে। অভিযান চালানোর পূূর্বে বড়ুয়ারা ঐ জায়গায় বেশ কিছু নতুন ঘরবাড়িও তৈরি করে। তাদের বেশিরভাগেরই ঐ এলাকায় জায়গা জমি নেই। এলাকার একটি মহল ফায়দা নিতে বড়ুয়াদের ইন্ধন দিচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্কুলে রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি প্রশাসনকে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা প্রদান করেছেন।


















