ফলোআপ

রুমায় ট্রাইবাল শিশুকে গণধ/র্ষণের অভিযোগে আটক ৩ : সামাজিক বিচারের সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবী

fec-image

বান্দরবানের রুমায় ট্রাইবাল স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করেছে রুমা থানা পুলিশ। আটকৃতেরা হলো- ক্যসাইওয়াং মার্মা, ক্যহ্লাওয়াং মার্মা ও উহাইসিং মার্মা। তবে অভিযুক্ত বাকি দুইজন এখনো পলাতক। তাদের ধরতে অভিযান চলছে দাবী থানা পুলিশের। আটককৃত ব্যক্তিরা বর্তমানে রুমা থানাতে আছে। আগামীকাল তাদের বান্দরবান কোর্টে প্রেরণ করা হবে।

ইতোমধ্যেই অভিযুক্ত ধর্ষকদের নামে রুমা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে। তবে ধর্ষণের মতো এসব অপরাধ সামাজিকভাবে অমীমাংসাযোগ্য অপরাধ হলেও প্রথাগত আইনে সালিশি বিচারে বাকিতে অর্থ জরিমানা করিয়ে অভিযুক্তদের দায় মুক্তি দেওয়া সেইসব সামাজিক নেতাদের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে রুমা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাওয়ার্দী বলেছেন, সামাজিকভাবে সালিশি বিচার আয়োজন এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তবে ধর্ষণের মতো ঘটনা সামাজিকভাবে অমীমাংসাযোগ্য অপরাধে সালিশি বিচারের আওতায় প্রথাগত শাস্তি দিয়ে ধর্ষণকারীদের ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় রুমা উপজেলার সুশীল ও যুব সমাজ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

জানা গেছে, সালিশি বিচারে অন্যতম নেতা পাইন্দু ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও নিষিদ্ধ ঘোষিত পাইন্দু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গংবাসে মার্মা সহ সামাজিক বিচার আয়োজনের সাথে জড়িতদের ফৌজদারী আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন আয়োজন করতে যাচ্ছে। রুমা যুবসমাজ ব্যানারে ২০ আগস্ট রোজ বৃহস্পতিবার সকালে রুমা বাজারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ সংক্রান্ত বান্দরবানের রুমায় পাইন্দু ইউনিয়নের পাইন্দু হেডম্যান পাড়ায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে এক সামাজিক নালিশি বিচার বসা হয়।

বিচারে উপস্থিত ছিলেন আলেচু পাড়া কারবারী মংনিঅং মার্মা। তিনি পার্বত্যনিউজকে বলেছেন, ওই প্রথাগত সালিশি বিচারে সুষ্ঠু মতামতের জন্য কাউকে সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে করা হয়েছে।

প্রথাগত বিচারে অভিযুক্ত ধর্ষণকারীদের ৫ টি শুকরের মূল্য স্বরূপ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করিয়ে দেওয়ার অজুহাত দিয়ে ধর্ষণকারীদের দায় মুক্তি দেয়া হয় এবং সে টাকাও বাকি রাখা হয়।

প্রথাগত সালিশি বিচারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন- পাইন্দু ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের তিন- তিনবার নির্বাচিত মেম্বার ও নিষিদ্ধ ঘোষিত পাইন্দু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গংবাসে মার্মা ও পাইন্দু মৌজার হেডম্যান মংচউ মার্মা গং। এতে সভাপতিত্ব করেন পাইন্দু পাড়া প্রধান কারবারী থোয়াইসা মারমা।

ঘটনার বর্ণনা
প্রথাগত সালিশি বিচারের ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বক্তব্যে বলা হয়, চলতি মাসের প্রথমে এই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে পাইন্দু হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা রাংমেশে মার্মা ছেলে শৈহাইনু মার্মা। বিষয়টি তার মাধ্যমে তার বন্ধু ক্যাহ্লা ওয়াইং, ক্য ওয়ং সাই, চহাই, উহাই সিং ও ক্য সাই ওয়ং জানতে পারে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভয় দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে এই ছাত্রীকে সুযোগ বুঝে একে একে ধর্ষণ করে।

বিষয়টি সহ্যসীমার বাইরে চলে গেলে ভুক্তভোগী ধর্ষিতা বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। এতে সবার মধ্যে এই ঘটনা জানাজানি হয়। এ অবস্থায় কারবারী থোয়াইসা মারমা’র বাসভবনে ধর্ষণ সংক্রান্ত প্রথাগত সালিশি বিচার করা হয়। অভিযুক্তদের নাম তাদের নাম: ক্য হ্লা ওয়াং, পিতা- রাং মেসে; ক্য ওয়াং সাই, পিতা- ক্যহ্লাচিং; চহাই, পিতা- স্যচিউ, উহাই সিং, পিতা- থোয়াই ন্যু চিং ও ক্যা সাই ওয়াং, পিতা- আ হ্লা মং।

এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের ঝড়
আলোচিত ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশে আসলে পুলিশ ও নিরাপত্তবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। ঘটনার দায়ে ১৯ আগস্ট রুমা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এতে আটকৃত তিনজনসহ ধর্ষণকারী হিসেবে পাঁচজনের নাম এজাহার ভূক্ত হয়।

রুমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেছেন, ধর্ষণের মামলায় এজাহার ভূক্ত বাকি দুইজনকেও আটকের জন্য অভিযান চলমান আছে।

এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মারমা যুব সমাজের নেতৃবৃন্দ এক বৈঠকে মিলিত হয়েছে। তারা বৃহস্পতিবার সকালে ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মাধ্যমে কঠিন শাস্তি দাবী এবং প্রথাগত সালিশি বিচার আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থার সুনিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন আয়োজন করবে। এ তথ্য জানিয়েছেন মারমা যুব নেতারা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: গণধর্ষণ, প্রথাগত বিচার, রুমা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন