আওয়ামী আমলে প্রাণ-প্রকৃতি আর পরিবেশ ধ্বংস করে নববর্ষ উদযাপন!

fec-image

বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে আয়োজন করা হয়েছে আলপনা উৎসব ‘আল্পনায় বৈশাখ ১৪৩১’। এশিয়াটিক এক্সপেরিয়েনশিয়াল মার্কেটিং লিমিটেড, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড ও বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে দেশের তিন স্থানে এই আলপনা আঁকা হয়।

২০২৪ সালের১২ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের জিরো পয়েন্ট থেকে অষ্টগ্রাম জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়কে আলপনা আঁকা হয়। প্রায় ১০ হাজার লিটার রঙ দিয়ে ৬৫০ জন শিল্পী মিলে আলপনা আঁকার মাধ্যমে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে যুক্ত হওয়ার আশা করেন। গত ১৩ এপ্রিল খুলনার শিব বাড়ি মোড় ও ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতেও আলপনা আঁকা হয়।

রঙ হলেই কি শিল্পকলা হয়! রঙের মিশ্রণ যখন আপনার চোখের জন্য পীড়নের কারণ হয় সেটা কি? গাড়ীচালক অনেকের জন্যই এটা সুখকর হবে না। যে রাস্তায় হরেক রকমের ট্রাফিক সংকেত থাকে, সেটার ওপর আলপনা দিয়ে রাস্তার চরিত্রই বদলে দেয়া হয়েছে।

পরিবেশ, জলবায়ু ও বায়ু মান বিষয়ে গবেষক অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার লিখেছেন, ‘হাওরের রাস্তায় এই রঙের খেলায় নববর্ষ উদযাপন প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতি হত্যার উৎসব ছাড়া কিছু নয়। পরিবেশ বিধ্বংসী এই ধরনের কাজ অনতিবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।’

এই পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ হাওড়ের পানিতে মিশে জীব বৈচিত্রের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করবে আগামী কয়েক মাস জুড়ে।

পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার (ইএসডিও) সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘এই রঙ মাছের পেটে যাবে, মানুষ আবার সেই মাছ খাবে। ফলে এভাবেই ফুড চেইনের (খাদ্য শৃঙ্খল) মাধ্যমে আবার মানুষের শরীরে এই রঙ প্রবেশ করবে যা অনেক ক্ষতির কারণ হবে বলে ধারণা করা যায়।

এছাড়া এই আলপনা করা জায়গায় যদি কেউ খালি পায়ে হাঁটে বা বসে, তবেও ত্বকের ক্ষতি করবে সেটা। তিনি আরও জানান, ‘এই আলপনা ব্যবহৃত রঙগুলোতে সাধারণত টক্সিক কেমিক্যাল ছাড়াও অ্যাক্রিলেট পলিমার, এক্সপিও পলিমারসহ নানা ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে।

বিশাল হাওরে এই রঙ খুব সহজেই পানিতে ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এই কেমিক্যাল (রাসায়নিক পদার্থ) যুক্ত পানি দিয়ে যদি কেউ হাতমুখ ধোয় বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করে তবে ত্বকের লোমকূপের মাধ্যমে মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই এই রঙে ব্যবহৃত কেমিক্যাল শুধু বায়ু দূষণই নয়, পানিতে মিশে এটি পানি দূষণও করছে।

এছাড়া এটি মাটির সঙ্গে মিশে একই সঙ্গে মাটি দূষণও করছে। যা নানাভাবে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন রোগব্যাধির বিস্তার করবে।

ডা. শাহরিয়ার হোসেন আরো বলেন, ‘এই রঙ বিভিন্ন ওয়েল বা ওয়াটার বেইস যেটাই হোক না কেন এর অর্গানিক দূষণ থাকবেই। ফলে হাওরের মানুষ বা যারা সেখানে ভ্রমণ করেছে তাদেরও এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নিশ্চিত। এই ধরনের দূষণ হৃদরোগ, লিভারের সমস্যার মতো জটিলতম রোগের সৃষ্টি করতে পারে। তবে সেখানকার লোকজন এটি এখন বুঝতে না পারলেও ধীরে ধীরে তারা বুঝতে পারবে। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।’

যে আয়োজন হতে পারত নির্মল এবং সকলের জন্য, সেটা জোরজবরদস্ত করে পরিণত হয়েছে সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদে। বন্ধ হোক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের আড়ালে প্রাণ, প্রকৃতি আর পরিবেশ ধ্বংসের জঘন্য আয়োজন।

লেখক : আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ। লেখাটি লেখকের ফেইসবুক পেইজ থেকে নেয়া।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: নববর্ষ, প্রবন্ধ, ব্যারিস্টার ফুয়াদ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন