দীঘিনালায় বাংলা নববর্ষ ১৪২১ ও বৈসাবি উৎযাপন
উপজেলা প্রতিনিধি, দীঘিনালা :
বাংলা বছরের প্রথম মাস বৈশাখ। এই মাসের প্রথম দিনে বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলায় বিশেষভাবে নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। পুরনো বছরের সব ভুলে গিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর চেষ্টা করে। এই দিনে সবার একটাই আশা থাকে নতুন বছর যেন সবার জন্য ভালো কাটে, সবাই যেন নতুন বছরে ভালো থাকতে পারে। বাংলাদেশে প্রতি বছর এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখ দিনটি উৎযাপন করে থাকে। এই দিন বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী এবং দোকানীরা নতুন হাল খাতা খুলে নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সারা দেশের ন্যায় পাহাড় বিধৌত পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় পালিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪২১ ও বৈসাবি। যদিও পার্বত্য এলাকার নববর্ষ উৎযাপন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে পুরোই ভিন্ন। এখানকার বাঙালিদের জন্য এটি নববর্ষ হিসেবে পরিচিত। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ত্রিপুরাদের জন্য বৈশুখ, চাকমাদের জন্য বিঝু আর মারমাদের জন্য সাংগ্রাই এ তিনটি মিলিয়ে বৈসাবি। ১২ এপ্রিল ফুল বিঝু, ১৩ এপ্রিল মূল বিঝু ও ১৪ এপ্রিল গোজ্যাই পোজ্যা বিঝু হিসেবে পালন করছে এখানকার উপজাতি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়।
নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এই উপজেলায় বসবাসরত চাকমা, ত্রিপুরা, মারমার প্রধান উৎসব বৈসাবি ও বাঙালীর বর্ষবরণে থাকে নানা আয়োজন। এ দুই আয়োজন মিলিয়ে এই উৎসবের ব্যাপকতা আরো বেরে গেছে। সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পানতা-ইলিশ পরিবেশন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুল জাহেদ পাভেল এর বাস ভবন প্রাঙ্গনে এই পানতা-ইলিশ পরিবেশন করা হয়। এতে ইউএনও ফজলুল জাহেদ পাভেল, দীঘিনালা থানার তদন্ত কর্মকর্তা ইসরাফিল মজুমদার, দীঘিনালা প্রেসক্লাব সভাপতি জাহাঙ্গির আলম রাজুসহ স্থানীয় বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ, সাংবাদিক বৃন্দ ও স্থানিয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সবাই পানতা-ইলিশ খেয়ে নববর্ষের শুভ সূচনা করেন।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে বৈয়াবি উৎসবকে। মিষ্টি, মিঠাই, নাগরদোলায় চড়ে ব্যাপক আনন্দে ভাসছে দীঘিনালাবাসী। প্রত্যেক ঘরে ঘরে মেহমানদের আপ্যায়ন করা হচ্ছে মিষ্টি, বিশেষভাবে তৈরি পাঁচন, গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজ, বাঙ্গি ইত্যাদি দিয়ে। উপজাতি তরুণ তরুণীরা বৈসাবি উপলক্ষে নানা রঙ্গে সেজে বেড়াতে যাচ্ছে এক জায়গা থেকে অন্য যায়গায়।
অন্যদিকে, বৈসাবি উপলক্ষে বিভিন্ন পাড়া মহল্লা ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমাদের ঐতিহ্যবাহী ক্রীয়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।



















