বান্দরবানের আলীকদমে গুলিতে পর্যটক নি/হত

fec-image

বান্দরবানের আলীকদম সীমান্তে একনলা বন্দুক নিয়ে মজা করতে গিয়ে ছোড়া গুলিতে ত্বহা বিন আমিন (২৪) নামে এক পর্যটক নি/হত হয়েছেন। ২২ জুলাই ২০২৫ সোমবার দুপুরে আলীকদম সীমান্ত কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের থরনী পাড়ার জুমঘরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক ঢাকা জেলার সাইনবোর্ড ডেমরা এলাকার আল আমিনের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর বলে জানা যায়।

স্থানীয় ও পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৯ তারিখে ঢাকা থেকে পাঁচজন বন্ধু মিলে আলীকদমের বেড়াতে আসেন। সেখানে অনুমতি না নিয়ে গোপনে আলীকদম থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে থরনী নামে জুমঘরে বেড়াতে চলে যান। পাঁচ বন্ধু মিলে জুমঘর সেখানে রাত কাটান। এর আগের দিন থরনী পাড়ার স্থানীয়রা গহীন পাহাড়ে বন্দুক নিয়ে শিকার করেছিল। শিকারে শেষে বন্দুকটি জুমঘরে রেখে বাড়িতে চলে আসে। সকালে জুমঘরে রেখে যাওয়া বন্দুক দিয়ে পাঁচ বন্ধু মিলে মজা করতে থাকে। এসময় হঠাৎ আকষ্মিক বন্দুক থেকে ছোঁড়া গুলিতে ত্বহা বিন আমিন ঘটনাস্থলে মারা যান। পরে সেখান থেকে বন্ধুরা মিলে মরদেহ নিয়ে চাইল্যাতলী পাড়াতে নিয়ে আসেন। সেখানে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে।

জানা গেছে, আলীকদম সদর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের থরনী পাড়া। গ্রামটি মিয়ানমারের সীমান্তে পুরোপুরি ঘেষা। থরনী পাড়া থেকে আর পাঁচঘন্টা পায়ে হেঁটে গেলে পাহাড়ের চুড়ায় থরনী জুমঘর। সীমান্তে ঘেষা এলাকাটির পুরোপুরি নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন। সেখানকার বাসিন্দারা সীমান্তে বনজঙ্গল থেকে বন্দুক দিয়ে পশুপ্রানী শিকার করে থাকেন।

নিহতর বন্ধু মো. মেরাজ বলেন, ১৯ তারিখে পাঁচ বন্ধু মিলে আলীকদম থেকে থরণী পাড়া জুমঘরে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে জুমঘরে স্থানীয়রা শিকার করা বন্দুক নিয়ে মজা করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে বন্দুক থেকে গুলি বের হয়ে ত্বহা বিন আমিন বুকে বাম পাশে লেগে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়ে যায়। এমন ঘটনা ঘটবে সেটা আমাদের কল্পনা বাইরে ছিল।

কুরুকপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাপুং ম্রো বলেন, দুইদিন আগে ৫ বন্ধু মিলে থরনী জুমঘরে বেড়াতে আসেন। প্রশাসন থেকে অনুমতি না নিয়ে তারা গোপনে সেখানে ঘুরতে গিয়েছিলেন। তার আগের দিন থরনী পাড়া মানুষ শিকারে শেষে বন্দুক জুম ঘরে রেখে আসে। সে বন্দুক দিয়ে বন্ধুরা মিলে মজার করতে গিয়ে বন্দুকে ছোঁড়া গুলিতে একজনের মৃত্যু হয়। তারা নিজেদের মধ্যে মজা করতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনা হয়েছে।

আলীকদম থানার উপ-পরিদর্শক শাহদাত হোসেন বলেন, দুইদিন আগে বন্ধুরা জুম ঘরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয়দের শিকার করে রেখে যাওয়া বন্দুক নিয়ে মজার ছলে গুলি লেগে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। মরদেহটি উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। নিহত পরিবার পৌছালে মামলা হবে নাকি হবে না সেটি পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আলীকদম
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন