ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তি, আলীকদমে ইউপি চেয়ারম্যানসহ বরখাস্ত ৪

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ১ নম্বর আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিনসহ চার জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে ভুয়া নাগরিক সনদ ও প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত ১২ জুলাই জারি করা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম-২০২৫ উপলক্ষে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যে ভুয়া নাগরিক সনদ ও ‘রোহিঙ্গা নন’ মর্মে প্রত্যয়নপত্র প্রদান, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া ও অসম্পূর্ণ তথ্যসংবলিত প্রত্যয়নপত্র ইস্যু করে ভোটার তালিকাভুক্তিতে সহায়তা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রশাসনিকভাবে পাওয়া গেছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জনপ্রতিনিধিরা হলেন— আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিন, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সন্তোষ কান্তি দাশ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাকের হোসেন এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মতিন।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার দায়িত্বে বহাল থাকা প্রশাসনিকভাবে সমীচীন নয়। জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪)(খ) ও (ঘ) এবং ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলম বলেন, “এটি সাময়িক বরখাস্ত, চূড়ান্ত বরখাস্ত নয়। তাদের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সরকারের এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আলীকদমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।

















