‘স্যারদের সাথে কথা বলে’ ঘুষ দাবি : অডিও ফাঁসের পর রামু থানার এসআই প্রত্যাহার

fec-image

‘স্যারদের সাথে কথা বলে’ বাদী পক্ষের কাছে লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে বেকায়দায় পড়েছেন কক্সবাজারের রামু থানা পুলিশের এক এসআই। অভিযুক্ত এই এসআই’র নাম চিরঞ্জীব বড়ুয়া।

রামুর একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন অনুকূলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি মোবাইল ফোনে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তার কথোপকথনের অডিও কল ছড়িয়ে পড়লে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। রামু থানার ওসি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা বিব্রত। কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) জানিয়েছেন, অভিযুক্ত এসআইকে রামু থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল সন্ধ্যায় ভয়েস রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনেকেই পুলিশের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

জানা যায়, বিগত ৭ মাস পূর্বে রামুর হাইটুপী শ্রীকুল এলাকায় সেফটিক ট্যাঙ্কে ধাক্কা দিয়ে হত্যা চেষ্টার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় রুপনা বড়ুয়া বাদী হয়ে রামু থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে সোমবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উক্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন (সার্জসীট) প্রেরণ সংক্রান্ত কথোপকথনের ৬ মিনিটের একটি অডিও ক্লিপ ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
রেকর্ডকৃত কথোপকথনে তদন্ত কর্মকর্তা চিরঞ্জীব বড়ুয়া মামলার বাদী রুপনা বড়ুয়ার দেবর সোহেল বড়ুয়াকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ”তোমাদের মামলার বিষয়টি নিয়ে আমি স্যারদের সাথে কথা বলেছি। ১ জনের জন্য হলে ৭০ হাজার, ২ জন হলে ১ লাখ টাকা। এটা কিন্তু তোমাকে কালকে সকালের মধ্যে দিতে হবে, তোমার সাথে যেরকম কথা হবে সেরকমই হবে।”

চিরঞ্জীব এ সময় সোহেলের উদ্দেশ্যে বলেন, ”বিবাদীরা কিন্তু শিক্ষিত, অনেক টাকা পয়সা আছে। তাদের আসামী যদি এদিক-সেদিক করে দিই তোমার থেকে টাকা এরা আরো বেশি দিবে, তুমি ১ লাখ দিলে ওরা ৩ লাখ দিবে।”

বাদীর আইনজীবী শিপ্ত বড়ুয়া বলেন, ৭-৮ মাস আগে রামুতে সেফটিক ট্যাংকের ছাদ থেকে এক যুবককে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে ফেলে দেওয়া হয়। পরে তার স্ত্রী রুপনা বড়ুয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

শিপ্ত জানান, রুপনার দেবর সোহেলের কাছে মামলার প্রতিবেদনে প্রকৃত আসামীদের অপরাধ লিখতে ঘুষ চান সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চিরঞ্জীব। ঘটনাটি ‘ন্যাক্কারজনক’ উল্লেখ করে চিরঞ্জীবের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, অভিযুক্ত এসআইকে রামু থানা থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে রামু থানার ওসি মুহাম্মদ তৈয়বুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত বিব্রতকর। বিষয়টি শোনার পরপরই তাকে থানার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

চিরঞ্জীবের মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: রামু
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন