“২০০৩ সালে ইট সলিং হওয়ার পর অদ্যবধি পর্যন্ত কোন সংস্কার কাজ হয়নি। সড়কের কিছু কিছু অংশে ইটের অস্তিত্ব পর্যন্ত বিলীন হয়ে গেছে, কালভার্টগুলোর অবস্থাও আধাভাঙ্গা”

মরণ ফাঁদের নাম পানছড়ি-শনটিলা সড়ক 

fec-image

ছোট ছোট কালভার্টগুলোর আবস্থাও বেশ নাজুক। মুমুর্ষ বা গর্ভবতী কোন রোগী নিয়ে এই সড়ক দিয়ে আসা মানেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করা। তাই এই সড়কটি মরণ-ফাঁদের সড়ক নামেই পথচারীদের নিকট পরিচিত।

পানছড়ি-শনটিলা সড়ক দিয়ে যান ও মানুষ চলাচল করছে শতভাগ ঝুঁকি নিয়ে। মূল সড়কের প্রায় জায়গায় সলিং ইট উঠে রাস্তা দেবে গেছে প্রায় দুই/তিন ফুট। মোটর সাইকেল, টমটম আর সিএনজি কোন রকম চললেও নিত্য ঘটে দূর্ঘটনা।

এবারের বর্ষায় এই রাস্তা দিয়ে যান চলাচল তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে কোন রকম পার হওয়াটাও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।

ছোট ছোট কালভার্টগুলোর আবস্থাও বেশ নাজুক। মুমুর্ষ বা গর্ভবতী কোন রোগী নিয়ে এই সড়ক দিয়ে আসা মানেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করা। তাই এই সড়কটি মরণ ফাঁদের সড়ক নামেই পথচারীদের নিকট পরিচিত।

সরেজমিনে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই সড়ক দিয়ে করল্যাছড়ি, হলধর পাড়া, তাপিতাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের লোকের চলাচল। তাছাড়া আশ-পাশ এলাকায় কোন বিদ্যালয় ও কলেজ না থাকার ফলে অত্র এলাকার ছেলে-মেয়েরা পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও পানছড়ি কলেজই তাদের একমাত্র ভরসা।

কিন্তু এই মরণফাঁদ দিয়ে আসা-যাওয়া বর্তমানে দুরূহ হয়ে পড়েছে। তাদের লেখাপড়ায় ঘটছে ব্যাঘাত।

তাছাড়া শনটিলা ও তার আশ-পাশ এলাকাগুলো পানছড়ির শস্য ভান্ডার হিসেবে রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। এ সড়কে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যাদি ও মৌসুমি ফল-ফলাদি বাজারজাত করাটা খুবই কষ্টকর। তাই চাষীরাও চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে।

শনটিলা গ্রামের হোসেন মেম্বার জানান, সেই ২০০৩ সালে ইট সলিং হওয়ার পর অদ্যবধি পর্যন্ত কোন সংস্কার কাজ হয়নি। সড়কের কিছু কিছু অংশে ইটের অস্তিত্ব পর্যন্ত বিলীন হয়ে গেছে, কালভার্টগুলোর অবস্থাও আধাভাঙ্গা।

পানছড়ির মুক্তিযোদ্ধা আলী আহাম্মদ, সিরাজ মিয়া ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে অধ্যয়নরত রফিুকল ইসলাম এই শনটিলার বাসিন্দা। এ গ্রামে রয়েছে একটি আনসার ক্যাম্প, একটি মহিলা মাদ্রাসা।

তিনি আরও জানান, অনেক জায়গায় যোগাযোগ করেছি কোন লাভ হয়নি। কিছুদিন আগে স্থানীয় সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের শনটিলা আগমনে এলাকাবাসীর মনে আশা জেগেছিল হয়তো কারও না কারও নজরে রাস্তাটি পড়বে। কিন্তু কোন সুফল আজো দেখা যাচ্ছে না।

পানছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন বলেন, ইউপির প্রস্তাবনায় ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপণা অধিদফতরের মাধ্যমে শনটিলা গ্রামের এক কিলো রাস্তা চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পানছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী অরুণ কুমার দাশ বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে একটি ডিও লেটার নিয়ে চিপ স্যারের কাছে গেলে আশা করি কাজ হয়ে যাবে।

দমদম, কালানাল গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এই দুই গ্রামের উপর দিয়েই বয়ে গেছে শনটিলা সড়ক। কিন্তু এখানকার রাস্তার অবস্থাও খুব খারাপ। সকলের প্রাঁণের দাবি শনটিলা সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি দমদম, কালানাল সড়কটিও যাতে মেরামতের তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করা হয় সে বিষয়ে পানছড়ি উপজেলা প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছে ভুক্তভোগীরা।

ঘটনাপ্রবাহ: পানছড়ি, পানছড়ি-শনটিলা সড়ক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − 11 =

আরও পড়ুন