রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নজরদারি ও মাইকিং করে সতর্ক

উখিয়া-টেকনাফে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা

fec-image

উখিয়া ও টেকনাফে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা জমে উঠেছে। এই অঞ্চলটি (কক্সবাজার-৪ আসন) সবসময়ই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর, বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উপস্থিতির কারণে।

২২ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ায় প্রার্থীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। এর আগে ​তফসিল ঘোষণার পর থেকেই উখিয়া ও টেকনাফের আনাচে-কানাচে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দিনরাত প্রচার-প্রচারণা, পথসভা এবং উঠান বৈঠক করছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিশেষ করে টেকনাফ ও উখিয়ার দুর্গম এলাকাগুলোতেও প্রার্থীদের পদচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

​নিরাপত্তার খাতিরে এবং নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখতে প্রশাসন রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে। নির্বাচনের সময় যাতে কোনো রোহিঙ্গা নাগরিক ক্যাম্পের বাইরে এসে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে বা কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে না পারে, সেজন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। ক্যাম্পের প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। মূলত স্থানীয় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।

​দীর্ঘদিন পর জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে মুখিয়ে আছেন। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রধান দাবি হিসেবে উঠে আসছে।
​নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে জয়ী হতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামী।

এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৬ জন। দুই উপজেলায় ১০৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে উখিয়ায় ৪৭টি ও টেকনাফে ৬০টি।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। তাঁকে প্রার্থী ঘোষণার পর অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মো. আবদুল্লাহর নেতৃত্বে একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলেও পরে এক হয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
অপরদিকে কক্সবাজার জেলা কমিটির আমির ও টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী জামায়াতের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনের মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা, সংগঠনের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং সক্রিয় মাঠপর্যায়ের কর্মী সমর্থনকে পুঁজি করে তিনি বিএনপির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। এ আসনে আরও যারা মাঠে রয়েছেন তারা হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা নুরুল হক, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) সাইফুদ্দিন খালেদ ও লেবার ডেমোক্রেটিক পার্টির আব্দুল্লাহ আল আরাফাত। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনে মূল লড়াই গড়াবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই।

এই আসনে বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে শাহজাহান চৌধুরী বিজয়ী হন ৩৬ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে; তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আলী (৩৩,১৭৬ ভোট)। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও জয়ী হন শাহজাহান চৌধুরী। ওই বছরের সপ্তম সংসদের জুনের নির্বাচনে ৪৪ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আলী; শাহজাহান চৌধুরী পান ৩০ হাজার ৫৯৪ ভোট। ২০০১ সালে শাহজাহান চৌধুরী জেতেন ৮৯ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়ে; আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আলী পান ৪৮ হাজার ৭৩৫ ভোট।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের আব্দুর রহমান বদি জেতেন ৬৫ হাজার ৫৪২ ভোট পেয়ে। শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছিলেন ৩২ হাজার ৩১৮ ভোট। ২০১৪ সালেও সংসদে যান আব্দুর রহমান বদি। ২০১৮ সালে বদির কাছে (১,০৩,৬২৬ ভোট) হেরে যান শাহজাহান চৌধুরী (৭৯,৩১০ ভোট)। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বদির স্ত্রী শাহিনা আক্তার আওয়ামী লীগের হয়ে বিজয়ী হন। নির্বাচনী ইতিহাসে আসনটি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পালাবদল হলেও, এবার দৃশ্যপটে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটের সমীকরণ বিএনপির দিকেই ঝুঁকে আছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তবে জামায়াতের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এই লড়াইকে চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে।
এছাড়া এ আসনটি দেশের ইতিহাসে লক্ষী আসন নামে পরিচিত। যিনি নির্বাচিত হন, তার দলই সরকার গঠন করতে সক্ষম হন।
এবারও এর ব্যাতিক্রম হবেনা বলে মনে করছেন উখিয়া টেকনাফের সচেতন মহল।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: টেকনাফ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন