কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, বিভিন্ন রুটে নৌপথে চলাচল বন্ধ

fec-image

টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল এবং নদী ও সাগরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন, কক্সবাজার-মহেশখালী ও কুতুবদিয়া নৌপথে চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সকালে বৃষ্টি কিছুটা কমে শহরের কয়েকটি নিচু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করলেও পরে আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নতুন করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

এদিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পাহাড়ি ঢল এবং বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় রামু ও চকরিয়ার অন্তত ২০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েকশ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভা, টেকনাফ, উখিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও পানি ঢুকেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান বলেন, আগামী দুই দিনও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

সোমবার সকালে কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী-কৈয়ারবিল সড়কের একটি জরাজীর্ণ সেতু ধসে পড়ে। এতে দুই এলাকার ১০টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনজুর আলম জানান, স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকায় ইউনিয়নের প্রায় ৩০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সদর, সাবরাং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের একাধিক গ্রামও প্লাবিত হয়েছে। বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় ৫০০-এর বেশি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী বলেন, ভারী বৃষ্টিতে ইউনিয়নের অন্তত ৪০০টি ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোন, কলাতলী, সুগন্ধা, বাজারঘাটা, কালুর দোকান, তারাবনিয়াছড়া, আলীরজাহাল, বাস টার্মিনাল ও বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন