কুতুবদিয়ায় বিভক্ত আওয়ামী লীগ, ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা

fec-image

দলীয় সভা চলাকালে কুতুবদিয়ার লেমশিখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিমকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনার কোন সুরাহা হয়নি। অভিযুক্তদের ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয় নি জেলা কমিটি। এমনকি ঘটনার পরে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। এনিয়ে দলের তৃণমূলের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন বিভক্ত। সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতব্বরের পক্ষে প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা নেই বলে জানান লেমশীখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম।

দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রয়াত সভাপতি সৈয়দ আহমদ কুতুবীর জন্য শোক প্রস্তাব করেন মো. রেজাউল করিম। এনিয়ে বিতর্কের এক পর্যায়ে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়।

এ ঘটনায় ২০ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করে দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান। কমিটিতে রয়েছেন, জেলা সহ-সভাপতি এম আজিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রনজিত দাশ এবং কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম কুতুবী।

৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবেদন দাখিল করেছে তদন্ত কমিটি।

নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, মো. রেজাউল করিমকে মারধরের ঘটনার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশসহ ২৮ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

উপজেলা সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর ও কৈয়ারবিল ইউনিয়ন সভাপতি আজমগীর মাতব্বরকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিয়োগের মাধ্যমে সম্মেলনের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সুপারিশ করেন তদন্ত কমিটি। এছাড়া ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতেও সুপারিশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে লেমশীখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মিটিংয়ে বাড়াবাড়ির কারণে তার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজের মাতব্বর ৯০ দশকে কুতুবদিয়া উপজেলা ফ্রিডম পার্টির সভাপতি ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতব্বরকে মৌখিক ও লিখিতভাবে বক্তব্য দেওয়ার জন্য বলা হলেও তদন্ত কমিটির কাছে কোন বক্তব্য দেন নি বলে জানান কমিটির একজন সদস্য।

জেলা আওয়ামী লীগের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দ্রুত বাস্তবায়ন চায় দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

আওরঙ্গজেব মাতব্বর ও আজমগীর মাতব্বরের দলীয় গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মতৎপরতা ও নেতাকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দলীয় সভানেত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত প্রধান অতিথি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপির নিকট বিস্তারিত ঘটনার বর্ণনা দেন।

এসময় ৩১ জন ভুক্তভোগীর স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ আকারে আবেদন করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতা স্বপন তাদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা আ.লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতব্বর বলেন, এগুলো পারিবারিক বিষয়। আমি কাউকে মারধর করিনি। এসব অপপ্রচার। মিথ্যা অভিযোগে রেজাউল আদালতে মামলা পর্যন্ত করেছে।

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। ফ্রিডম পার্টির সভাপতি ছিলাম বলে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

অভিযোগকারী রেজাউল করিম দলের কোন কমিটিতে দাবি করেন আওরঙ্গজেব।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এগুলো আমাদের দলীয় বিষয়। সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × two =

আরও পড়ুন