খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানকে যেন ইট পাথরের বাজার বানিয়েছে পৌরসভা: পবিত্রতা ক্ষুণ্ন

IMG_6885

নিজস্ব প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান বর্তমানে বানিজ্যিক ময়দানে পরিণত হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের যথাযথ মনিটরিং না থাকায় ঈদগাহ ময়দানের এ অবস্থা বলে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অভিমত।কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে পৌর মেয়র সংবাদ মাধ্যমের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ‘ঈদগাহ যাদের দায়িত্বে এখানে তাদেরই কাজ হচ্ছে। এতকিছু রেখে এটার উপর আপনাদের নজর গেল। নিউজ করার আর বিষয় পাইলেন না। যতসব আজাইরা প্যাচাল’।

 

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা এ দুই ঈদের নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে ঈদগাহ ময়দানে রংকরা ও ঈদগাহ মাঠ প্রস্তুত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে মাঠের সারা ছেরের পবিত্রতা রক্ষা। ঈদের নামাজ শেষে আবারও ময়দানটি চলে যায় স্থানীয় সুবিধাভোগীদের নিয়ন্ত্রণে। পৌরসভার সম্মুখে ঈদগাহ ময়দান হওয়ায় ১জন মেয়র, ৯জন কাউন্সিলরের চোখে ঈদগাহ ময়দান সকাল-বিকাল চোখে পড়লেও জনপ্রতিনিধিরা নীরব থাকায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঈদগাহ ময়দানের বেহাল অবস্থা দেখেও মুখ খুলে প্রতিবাদ তো দূরের কথা বিষয়টি নিয়ে মেয়রের সামনে কথা বলার সাহসও পায়না।

পাশাপাশি  পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে ঈদগাহ ময়দান হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনকেও ঈদগাহের পবিত্রতা রক্ষায় সরকারীভাবে কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। মানুষ ঈদগাহের ভিতরে প্রবেশ করে পৌর ড্রেনের মধ্যে দাঁড়িয়ে মুত্রত্যাগ করে। অনেকে এধরনের দৃশ্যও দেখে নীরবে সহ্য করে চলে যাচ্ছে।

জানা যায়, ঈদগাহ ময়দানের এমন বেহাল দশার কারনে অনেক সময় মিলাদুন্নবী, মিলাদ মাহফিলও হঠাৎ করে আয়োজন করা সম্ভব হয় না। খাগড়াছড়ি জেলা সদরের শাপলা চত্বরে ও খাগড়াছড়ির পৌরসভার সম্মুখে খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদগাহ মাঠের চারিদিকের বাউন্ডারীতে ফাটল দেখা দিয়েছে। মাঠে রয়েছে স্তুপ করা ইট, পাথর, রড, লিচু বেপারীদের সরগরম, সিলেট বালি সহ নানাবিধ জিনিসপত্র। এছাড়াও মাঝে মধ্যে মেশিন দিয়ে পাথর ভাঙতে দেখা যায়। অবাধে ঈদগাহে ঢুকছে বিভিন্ন ট্রাক্টর। ট্রাক্টর গুলোতে বিক্রিকৃত ইট পরিবহণ করা হয়। ইট বিক্রি শেষ হলে আবারও বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয় হাজার হাজার ইট। রড সোজা করা, রড কাটা এসব দৃশ্যই প্রতিনিয়ত দেখা যায়। এককথায় এটি ঠিকাদার, ইটবালু ও পাথর ব্যবসায়ীদের গোডাউনে পরিণত হয়েছে।

প্রতিদিন বিকালে লিচুর বাজার হিসেবে এ ঈদগাহ ময়দান ব্যবহার করছে স্থানীয় লিচু ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া সন্ধ্যার পর চলে চায়ের আড্ডা। অনেক সময় যুবকরা খেলে ক্রিকেট খেলা।

বিষয়টি ঈদগাহের তত্ত্বাবধানকারী কর্তৃপক্ষ খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি পার্বত্যনিউজকে বলেন, ঈদগাহ মাঠের সংস্কার কাজ চলছে, এ ছাড়াও সেখানে অন্য যেসব কাজ চলছে তা পৌর রিলেটেড। পৌর রিলেটেড কাজ বলতে কী বোঝাতে চাইছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদগাহের পাশে কিছু ভবন নির্মাণ কাজ চলছে সেগুলোর কাজ হচ্ছে এখানে। বাইরের কাজ ঈদগাহের মতো পবিত্রস্থানে কেন করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে মেয়র বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘ঈদগাহ যাদের দায়িত্বে এখানে তাদেরই কাজ হচ্ছে। এতকিছু রেখে এটার উপর আপনাদের নজর গেল। নিউজ করার আর বিষয় পাইলেন না। যতসব আজাইরা প্যাচাল’।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + 3 =

আরও পড়ুন