চকরিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

fec-image

কক্সবাজারের চকরিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে এসএসসি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, শিক্ষক ও অভিভাবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টা না থাকলে কখনো একজন শিক্ষার্থীর ভাল ফলাফল আশা করা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অগ্রগতি নিশ্চিত করতে শিক্ষকের পাশাপাশি অভিভাবকের ভূমিকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য।

সবার একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত—শিক্ষার্থীদের মেধাবি, নৈতিক ও আদর্শ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা করবে। তাই তাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পান্না বড়ুয়া সভাপতিত্বে ও সহকারী শিক্ষক নাজিম উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক (অবসরপ্রাপ্ত) মো: ফরিদ উদ্দীন।

তিনি বলেন, বিদ্যালয় থেকে দেয়া এ সংবর্ধনা তোমাদের পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও স্বপ্নের স্বীকৃতি। শিক্ষক হিসেবে আমি গর্বিত, কারণ তোমাদের মধ্যে আমি আগামীর নেতৃত্ব দেখতে পাই। এই অর্জন হোক ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখো, নিয়মিত শেখো এবং সমাজ ও দেশের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা চালিয়ে যাও।

নিজের চোখে দেখেছি, কীভাবে কিছু ছোট্ট ছোট্ট মুখ আজ বড় হয়ে উঠেছে মেধা, পরিশ্রম আর স্বপ্নের আলোয়। এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তোমাদের সঙ্গে নতুন করে দেখা করতে পেরে এবং সংবর্ধনা দিতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত। জীবন চলার পথে তোমরা ভালো কিছু কর, বিদ্যালয়ের সম্মান ও সুনাম বয়ে আনবে সেটাই প্রত্যাশা।

আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আলফাজ আহমদ, সিনিয়র শিক্ষক শহীদুল হক হাসান, সিনিয়র শিক্ষক আবু শোয়াইব, সিনিয়র শিক্ষক আব্বাস আহমদ, সহকারী শিক্ষক মো: রাসেল উদ্দিন, সহকারী শিক্ষক সাইফুদ্দিন আহমদ মানিক ও সহকারী শিক্ষক আবদুল কাদের।

আয়োজিন অনুষ্টানে অভিভাবকদের মধ্যে থেকে বক্তব্য রাখেন, মোহাম্মদ জাকারিয়া, রেহেনা বেগম ও মাস্টার মো: ওসমান গনি। এছাড়াও বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত জেলায় সর্বোচ্চ নম্বারে অধিকারী ও চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের ১৫তম স্থান করে নেয়া মেধাবী কৃতি ছাত্রী জয়া খাতুন ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী ছাত্রী শিরিন শোভা বক্তব্য রাখেন।

সংবর্ধনা সভায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পানা বড়ুয়া বলেন, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান তোমাদের জন্য শুধু পুরস্কার নয়, এটা একটি প্রমাণ। তোমরা পারো এবং ভবিষ্যতেও পারবে। জীবনের পথে সামনে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে, অনেক সুযোগ আসবে যেখানে এই শেখার অভ্যাস, এই পরিশ্রমের মানসিকতা তোমাদের শক্তি হয়ে পাশে থাকবে।

তোমাদের প্রতি ছোট্ট একটা অনুরোধ থাকবে, এই অর্জন যেন তোমাদের গন্তব্য না হয়, বরং আরও বড় স্বপ্নের শুরু হয়। আর এই স্বপ্নে যেন থাকে দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং দেশপ্রেম। তোমাদের এই সাফল্যে আমি যেমন আনন্দিত, তেমনি আমি তোমাদের ভবিষ্যত নিয়েও আশাবাদী।

বিদ্যালয়ের দক্ষ শিক্ষক ও পাঠদানের আন্তরিক পরিবেশ বিদ্যমান। তাই এ ধারা অব্যাহত রাখতে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের মাঝে আরও সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে সক্রিয় সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আলোচনা সভা শেষে চকরিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী ১৭ জন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। তৎমধ্যে সর্বোচ্চ নম্বারের অধিকারী জেলায় প্রথম ও চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের ১৫তম স্থান করে নেয়া মেধাবী কৃতি ছাত্রী জয়া খাতুনকে সম্মানা ক্রেস্ট এবং নগদ দশ হাজার টাকা প্রাইজমানি দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: চকরিয়া
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন