আপডেট

ডাকাতের চাইনিজ কুড়ালের আঘাতেই খুন শিশু শিল্পী জনির

fec-image

কক্সবাজারের ঈদগাঁহতে ডাকাত দলের চাইনিজ কুড়ালের আঘাতেই নির্মম খুনের শিকার হয় কক্সবাজারের আলোচিত  শিশু শিল্পী জনি দে রাজ (১৮)।

বৃহস্পতিবার (৮ অেক্টাবর) সকাল  ৮ টার দিকে পাহাড়ি জনপদ ঈদগাঁহ-ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় সিএনজিতে থাকা আরো ২ যাত্রী আহত এবং অপর দুইজন ডাকাত কর্তৃক অপহরণের শিকার হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। তবে তা নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত হওয়া  যায়নি।

নিহত জনি দে রামু উপজেলার  ঈদগড় ইউনিয়নের  ৪নং ওয়ার্ড চরপাড়া এলাকার তপন দের পুত্র।

ঈদগাঁহ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারি ইনচার্জ এসআই শামীম আল মামুন জানান, ঈদগাঁহ থেকে ঈদগড় যাওয়ার পথে হিমছড়ি ঢালায় সিএনজিবাহী যাত্রীরা পাহাড়ি ডাকাতদলের আক্রমণের শিকার হন। এসময় ডাকাতের উপুর্যুপরি চাইনিজ কুড়ালের আঘাতে শিল্পী জনি গুরুতর  আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঈদগাঁহস্থ বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে  চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

তিনি আরো জানান, ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নেন। স্থানীয় হাসপাতাল থেকে মৃত দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার পরপরই ঈদগাঁহ পুলিশের নবাগত আইসি পরিদর্শক আবদুল হালিমের নেতৃত্বে পুলিশদল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘাতক ডাকাত দলকে আটকে পাহাড়ি বন এলাকায় পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানান।

নিহত জনির পিতা তপন দে জানান, পিতা পুত্র  চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় কয়েকটি অনুষ্ঠান শেষে করে ঘটনার দিন ভোরে  ঈদগাঁহ বাসস্টেশন থেকে সিএনজি যোগে  জনি তার আগে চলে যায়। যাওয়ার পথেই এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।

সংবাদ পেয়েই কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মনিরুল গিয়াসসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ঈদগড় ইউনিয়ন  চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভুট্টা ঘটনার পর পরই  ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্র ছুটে যান।

সকাল ৮ টা থেকে নিয়মিত ঈদগাঁহ- ঈদগড় সড়কের ঝুকিপূর্ণ এলাকার চৌকি গুলোতে পুলিশের অবহেলায় অবস্থান না  থাকার কারণে এ নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এদিকে সচেতন এলাকাবাসীর অভিযোগ,ঈদগাঁহ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ি কেন্দ্রিক দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠা দালাল চক্রের সাথে এসব পাহাড়ি ডাকাতদল ও ছিনতাইকারী চক্রের আতাত থাকতে পারে। এসব দালালরা পুলিশের অবস্থান অপরাধীদের অবগত করাতে তারা নির্বিঘ্নে ডাকাতি ও অপহরণ করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

সম্প্রতি পুরো পুলিশ প্রশাসন বদলি হওয়ায় নবাগত পুলিশ সদস্যদের কাছে এসব এলাকা অপরিচিত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসব দালালদের গোপন তথ্যের কারণে অপরাধি চক্র ফের বেপরোয়া হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন পর এ নির্মম খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তারা অবিলম্বে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রিক দালান চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, জনি দে
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 5 =

আরও পড়ুন