থানচিতে ম্যালেরিয়া ও ডায়রিয়া নিরসনে মত বিনিময় সভা


পাহাড়ে হঠাৎ ম্যালেরিয়া ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখায় রেমাক্রী ইউনিয়নের বড় মদক আন্দারমানিকের ৭টি পাহাড়ি গ্রামে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৯ জন মারা গেছে। এমন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ডায়রিয়া/ ম্যালেরিয়া প্রাদুর্ভাব হতে স্থায়ী সমাধান নিরসনের স্থানীয় ও সরকারের করণীয় বিষয়ে জরুরি এক মত বিনিময় সভা বান্দরবানে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে মত বিনিময় সভা সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থোয়াইহ্লামং মারমা। অন্যান্য মধ্যে বান্দরবানে সিভিল সার্জন নিহার রজ্ঞন নন্দী, বান্দরবান জেলা পরিষদে সদস্য ও জেলা স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটি সভাপতি ক্যসাপ্রু মারমা, ভাইস চেয়ারম্যান চসাথোয়াই মারমা,নারী ভাইস চেয়ারম্যান নুমেপ্রু মারমা প্রমুখ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মত বিনিময় সভা উপস্থিত থেকে রেমাক্রী ইউটি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা রনি বলেন, রেমাক্রী ইউনিয়নের বড় মদক অঞ্চলের জনগণের জন্য বড় মদক বাজারে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, একজন আবাসিক চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল ও ঔষধ রাখা জরুরী বলে দাবি করেন। এ ছাড়াও জনসচেতনতামূলক ডায়রিয়া হওয়া কারণ সমূহ এবং করণীয় জনগণের নিকট স্বাস্থ্য সচেতনতা জন্য প্রচার প্রচারণা করার দাবি করেন তিনি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক মিহরাব আল রহমান বলেন, যেহেতু এলাকা খুবই দুর্গম যোগাযোগ বিছিন্ন, অসচেতনতা, ওই সব পাড়া গুলিতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জন্য পাড়া পাড়া স্থায়ী টিউওয়েল স্থাপন, বর্ষা মৌসুমে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ক্যাম্প, স্থায়ী মশারি ব্যবহার, এবং পাড়াগুলিকে পরিস্কার পরিছন্ন রাখা গেলে দুর্যোগপূর্ণ হতে রক্ষা করার সম্ভব হবে বলে মনে করে সভায় তার মতামত ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, গত ১১ জুন হতে এ পর্যন্ত ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে মোট ৯ জন মারা গিয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত সংখ্য ৫০ জন। গতকাল মঙ্গলবার দুইজন মারা গিয়েছে। বর্তমানে বিজিবি, স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে চিকিৎসা সেবা চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল অবস্থানে আছে বলে জানান তিনি।
সভায় সভাপতি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুুরাদ বলেন, রেমাক্রী ইউনিয়নের বড় মদক হতে প্রায় একশ কিলোমিটার উপরে দূরত্বে একজন ডায়রিয়া রোগীকে থানচি সদরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত ইজ্ঞিন চালিত বোট করে আনা নেয়ার অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার এবং অনেক ব্যয় বহুল। সেখানে একটি মিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গড়ে তোলা মত দেন তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে মত বিনিময় সভা বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার তৃনমূলের দুর্গম গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছানোর কাজ চলমান রয়েছে। আগামী কয়েক বছরে মধ্যে তা সমাপ্তি হবে। তখন দ্রুত চিকিৎসা সেবা দিতে ও সম্ভব হবে। তাছাড়া বড় মদক সীমান্তে প্রায় ৩০টি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীদের পাড়া গুলিতে বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য টিউওয়েল বসানো ব্যবস্থা গ্রহণ ও বড় মদক বাজারে কমিউনিটি ক্লিনিক বা মিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থা, ডায়রিয়া ম্যালেরিয়া বিষয়ের গণসচেতনতা জন্য যাবতীয় করণীয় কাজ গুলি বাস্তবায়নে মাননীয় পাবর্ত্য বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যাান ক্যশৈহ্লা নিকট উপস্থাপন করে জোর দাবি জানানো হবে।
এ জন্য উপজেলা বসবাসরত জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কারবারি, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা , বিভিন্ন রাজনৈতিক, সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক সকলের সহযোহিতার জন্য আহ্বান জানান।
মত বিনিময় সভা উপজেলা ৪ ইউপি চেয়ারম্যান, আবাসিক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, এনজিও কর্মী, সাংবাকদিক অংশ নেন। এর আগে অতিথিরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাঙ্গণের জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেনে শিশুদের ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো মধ্য দিয়ে শুভ উদ্বোধন করেন এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থা দুইটি ওয়ার্ডে পরিদর্শন করেন সিভিল সার্জন নিহার রজ্ঞন নন্দী।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যনুসারের ডায়রিয়া মৃতদের মধ্যে রেমাক্রী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে বড় মদক সীমান্তে দু্র্গম মেনতাং পাড়া বাসিন্দা ও পাড়ার প্রধান মেনতাং কারবারি ৪৮, ক্রাইঅং ম্নো ১৮, লংথাং পাড়া বাসিন্দা লংপিং ম্রো ৫০, ঙারেসা পাড়া বাসিন্দা প্রেনময় ম্রো ১২, সংদক ম্রো ২২, সংওয়ো ম্রো ৩৫, রুংরাক ম্রো ৫০, প্রেলি ম্রো ৩৬, মংঞোচাই মারমা ২২, উষামং পাড়া বড় মদক ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে।

















