দীর্ঘ সাত বছরেও জাতীয়করণ হয়নি থিমছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি জনপদের একমাত্র জ্ঞানের আলো ছড়ানোর মাধ্যম থিমছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘ সাত বছরেও জাতীয়করণের আওতায় আসেনি। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ বিদ্যালয়টি। বিনা বেতনে পাঠদান দিয়ে যাচ্ছে শিক্ষক শিক্ষিকারা।

উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড পাহাড়ি এলাকায় জন-বিচ্ছিন্ন একটি গ্রামে বিদ্যালয়টির অবস্থান। বিদ্যালয় থেকে দুই পাশের ৪ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। পায়ে হেঁটে যাওয়া ছাড়াও বিকল্প আর কোনো উপায় নেই। বর্ষা মৌসুমে কাঁদা মাটির উপর দিয়ে এবং পাহাড়ি ছড়া ও পাহাড় বেঁয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। তবে বিচ্ছিন্ন এলাকায় পাহাড়ি বাঙালি মিলে এবং রাবার বাগানের শ্রমিকদের নিয়ে কয়েকটি গ্রামের শতাধিক বাড়ি ঘর রয়েছে। এ বিদ্যালয়টিই এলাকায় বসবাসরত লোকজনের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার আলো ছড়ানোর একমাত্র প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টি ছাড়া অবহেলিত জনপদের লোকজনের সন্তানদের শিক্ষা দেওয়ার আর কোনো বিকল্প উপায় নেই।

সরেজমিনে এই প্রতিবেদক বিদ্যালয়টিতে গেলে শিক্ষক- শিক্ষিকা, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানায়, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টি গাছের খুঁটি ও টিন দিয়ে তৈরী যা বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থা। যেকোনো সময় ধ্বসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া বিদ্যালয়টি মাত্র একটি টিনসেড ভবন রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের শ্রেণী কক্ষের সমস্যা, বসার জন্য বেঞ্চ, বাথরুম ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ মাঠ নেই। তারপরও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম শিক্ষক, শিক্ষিকাদের মানসম্মত পাঠদানে প্রতি বছরই ভাল ফলাফল অর্জন করে আসছে বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জন্নাতুল ফেরদাউস জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঁচজন শিক্ষক রয়েছে। তাদের মধ্যে চার জন নারী ও একজন পুরুষ শিক্ষক। সকলেই বিনা বেতনে পাঠদান দিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়টির সভাপতি মো. জসিম উদ্দীন জানান, এ জনপদে জ্ঞানের আলো ছড়ানোর একমাত্র মাধ্যম থিমছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি দীর্ঘ সাত বছরেও জাতীয়করণের আওতায় আসেনি। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ বিদ্যালয়টি। শিক্ষক শিক্ষিকারা বিনা বেতনে পাঠদান দিয়ে যাচ্ছে ।

২০১৩ সালে দুর্গম জনপদে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে তাৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুনিরুল হক (মনু), স্থানীয়দের সাথে পরামর্শ করে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন বলে জানান বিদ্যালটির সাবেক সভাপতি মো. আবদুর রশিদ।

তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাত্র এক বছর ইউএনডিপি ও গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন (গ্রাউস) দু’জন শিক্ষককে এক বছর দুই হাজার টাকা করে সম্মানী প্রদান করেছিলেন। সেটাও এখন বন্ধ হয়ে গেছে। পাঁচজন শিক্ষক বিনা বেতনেই দীর্ঘ সাত বছর যাবৎ পাঠদান দিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম জানান, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়টির বিষয়ে খোঁজ খবর রাখছেন। দুর্গম জন-বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি এলাকার ছেলে মেয়েদের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির মাধ্যমে বর্তমানে একটি কাঁচা রাস্তাও তৈরী করেছেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়টির নানা সমস্যার ব্যাপারে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম কোম্পানী জানান, থিমছড়ী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। শিক্ষক, শিক্ষিকারা কোনো ধরনের বেতন ভাতা না পাওয়ায় তিনি বিগত ঈদের সময় সকল শিক্ষকদের ঈদ বোনাস হিসাবে কিছু নগদ অর্থ প্রদান করেছেন। আগামীতেও সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়া গেলে বরাদ্দ দিয়ে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যালয়টির এসব সমস্যা সমাধান করে দুর্গম এ গ্রামের শিক্ষার মান উন্নয়নে পার্বত্যমন্ত্রী বাবু বীর বাহাদুরের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় জনগণ।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine − 3 =

আরও পড়ুন