পাঁচ দিন পর আবারও বিকট শব্দে কেঁপে উঠছে টেকনাফ সীমান্ত


মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের জেরে পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও বিস্ফোরণের শব্দে কাঁপল কক্সবাজারের টেকনাফ। রাখাইনের মংডু টাউনশিপের আশপাশের গ্রাম থেকে ৪ জুলাই বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে থেমে থেমে আবারও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনতে পান টেকনাফের বাসিন্দারা। নাফ নদীর তীরে টেকনাফ পৌরসভা, সদর, সাবরাং ইউনিয়নের বাসিন্দারা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান।
টেকনাফের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার সকাল থেকে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি বিকট শব্দ ভেসে আসছে মিয়ানমারের দিক থেকে। আজ বৃহস্পতিবার সকালেও থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
এরে আগে গত শুক্রবার বেলা ১টার পর থেকে মঙ্গলবার মধ্য রাত পযর্ন্ত পাঁচদিন বিস্ফোরণের কোনো শব্দ শোনা যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান ও সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, গত পাঁচদিন সীমান্তে মানুষ শান্তিতে ছিলেন। কোনো ধরনের শব্দ পাওয়া যায়নি। কিন্তু বুধবার সকাল থেকে ক্রমাগত মর্টার শেল ও ভারী গোলার শব্দ শোনা যাচ্ছে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, গত শুক্রবার দুপুরের পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত শান্তিতে ছিলেন সীমান্তের লোকজন। এসময় তারা কোনো ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি। তবে বুধবার সকাল থেকে হঠাৎ বিকট শব্দে বাড়িঘর কেঁপে উঠে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সীমান্ত এলাকার লোকজনের মতে, মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপের যে এলাকায় বর্তমানে সংঘর্ষ হচ্ছে, সেখানে অধিকাংশ রোহিঙ্গা নাগরিকের বসবাস। মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় নতুন করে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এমন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। তবে এই সংঘাতের ফলে সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক রয়েছে কোস্টগার্ড ও বিজিবি। নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গাকে ঠাঁই দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, গত পাঁচদিন কোনো ধরনের বিস্ফোরণ বা গোলার শব্দ পাওয়া যায়নি। তবে বুধবার থেকে আবারো বিকট শব্দে কেঁপে উঠছে টেকনাফ। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার রয়েছে।

















