পানছড়িতে উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয় করণের দাবী

panchari

পানছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয় করণের দাবীতে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিদ্যালয় মিলনায়তন কক্ষে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মী ছাড়াও পানছড়ি উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক অনুপ দত্ত তালুকদারের স্বাগত বক্তব্যর মধ্যে দিয়েই শুরু হয় অনুষ্ঠানের সূচনা পর্ব। এ সময় তিনি উপজেলা সদরের সবচেয়ে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয় করণের নায্য দাবীর কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরেন।

এছাড়া বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অলি আহাম্মদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমীপে লিখিত আবেদন পত্রটি পাঠ করে শোনান ।

এ সময় শিক্ষরা ১৯৮০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানান সফলতা তুলে ধরেন। তারা ২০১৩ সালে পাবলিক পরীক্ষায় উপজেলার সেরা ফলাফলের জন্য উপজেলা পরিষদ কর্তৃক সংবর্ধনা ও পুরষ্কার প্রাপ্তি, সকল সম্প্রদায়ের ১৩০০ শিক্ষার্থীর মিলনমেলা, বিদ্যালয়টি উপজেলা সদর থেকে মাত্র ১৫০গজ দূরেসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন তথ্যাদি তুলে ধরেন।

এ ছাড়া যে অজ্ঞাত কারণে বিদ্যালয়টি মডেল মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়ে উপজেলা সদর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অন্য একটি বিদ্যালয়কে মডেল ঘোষণা করা হয়েছে সে কথাও তুলে ধরেন।

জাতীয় দৈনিক “বাংলাদেশ প্রতিদিনে”র খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি মো: জহুরুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা সবিতা চাকমা বলেন, পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়টি জাতীয় করণের জন্য সরকারের সব ধরণের নীতিমালার আওতায় থাকা সত্বেও স্বনামধন্য এই বিদ্যালয়টি প্রাথমিক আওতাভুক্ত হতে না পারায় আমরা হতাশ হয়েছি। এ বিষয়ে আমরা জাতির বিবেক কলম সৈনিকদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, পানছড়িতে বিদ্যালয়কে ‘মডেল’ করণ নিয়েও জন্মেছিল নানান নাটকীয়তা। ২০০৮ সালের এপ্রিলে সিনিয়র সহকারী সচিবের নেতৃত্বে একটি টিম পানছড়িতে আসলেও ঐ দিনটি ছিল সরকারী ছুটির দিন। তাই বিদ্যালয় বন্ধের অজুহাতে পানছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়কে ‘মডেল’ করার প্রাথমিক রায় দিলেও পানছড়ি বাজার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জ্ঞান প্রভাত তালুকদারের রিট পিটিশন নং ২৩৭৫/২০০৯’র কারণে ১৫এপ্রিল ২০০৯ সালে প্রথমে তিন মাসের জন্য তা স্থগিত করা হয়।

পরবর্তীতে পুনরায় তদন্তের মাধ্যমে এ বিষয়ে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করলেও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আশ্বাসে ২০১০ সালের জুন মাসে রীট আবেদনটি তুলে নিলে পানছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়কে মডেল উচ্চ বিদ্যালয় হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়।

মডেল ঘোষণার পরবর্তী সময়ে পানছড়িতে এবার চলছে জাতীয়করণ নিয়ে নানান নাটকীয়তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, গত সপ্তাহে বিদ্যালয় জাতীয়করণের বিভিন্ন তথ্যাদি সংগ্রহ করতে আসা একটি টিম দিনের আলোতে সাজেকের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ শেষে রাতের অন্ধকারে পানছড়ি এসে জাতীয়করণ সংক্রান্ত তথ্যাদি পানছড়ি বাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে মাটিরাঙ্গার উদ্দেশ্যে পানছড়ি ত্যাগ করলে বিষয়টি সকলের নিকট প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষকসহ সবাই দাবী করেন, বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য সরকার নির্ধারিত যে সকল মানদন্ড রয়েছে এবং সরকার যে তথ্যাদি চেয়েছে তা একমাত্র পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয় পূরণ করতে সক্ষম।

তাই মানদন্ড বিচারের মাধ্যমে জাতীয়করণের ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক মহল।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × two =

আরও পড়ুন