পার্বত্যচুক্তি বাতিল হয়নি, আবার ঝুলেও আছে: ঊষাতন তালুকদার

fec-image

রাঙামাটি আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, সরকারের সাথে পার্বত্য চুক্তি বাতিল হয় নাই, আবার ঝুলেও আছে। বাইরে বলা হচ্ছে-চুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভিতরে ভিতরে সব বস্তা বন্দি।

বুধবার (০২ডিসেম্বর) সকালে রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি রাঙামাটি জেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত শান্তিচুক্তির ২৩তম বর্ষপূতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রশাসন যন্ত্রে যেমন প্রগতিশীল রয়েছে তেমনি উগ্রবাদীরা রয়েছে। এ উগ্রবাদীরা সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাকে ভুল বুঝাচ্ছে। ভুল তথ্য দিয়ে পথভ্রষ্ট করছে। চুক্তি বাস্তবায়ন হলে কি এমন ক্ষতি হবে। এখানকার অধিবাসীরা তাদের ভূমির অধিকার ফিরে পাবে। এটাই তাদের চাওয়া।

পিসিজেএসএস’র এ নেতা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদে নির্বাচন হচ্ছে না, জেলা পরিষদে নির্বাচন হচ্ছে না। জেলা পরিষদগুলোতে দলীয়করণ করার মাধ্যমে গম বরাদ্দের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সমস্যার সমাধান না করে গড়ে তোলা হচ্ছে পর্যটন কেন্দ্র। পার্বত্যচুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে ভূমি বিভাগ হস্তান্তর করা হয়নি। ডিসি-এসপিরা সমতলের ন্যায় তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। ডিসি নিজে স্থায়ী সনদপত্র প্রদান করছে।

স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ভারত-পাকিস্তান ভাগ হওয়ার সময় এখানে ভারতীয় পতাকা উত্তোল করা হয়েছিলো। কারণ উপজাতি অঞ্চল হিসেবে এটা ভারতের রাজ্য থাকার কথা। কংগ্রেসের রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে তৎকালীন সময়ে এ অঞ্চলকে পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাকিস্তান সরকার ক্ষমতায় এসে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ বাঁধ দিয়ে পাহাড়িদের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। ৫৪ হাজার একর জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এক লাখ মানুষ বাস্তহারা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শরণার্থীদের ঘরে খাবার নাই, জায়গা নাই। কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। অথচ এখানে শরণার্থী বিষয়ক ট্রাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। তাদের কি কাজ। তারা শরণার্থীদের জন্য কি করছে।

এটা উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল। এখানে-ওখানে নিরাপত্তা বেস্টনি নির্মাণ করা হয়েছে। মানুষ স্বাধীনভাবে যাতায়াত করতে পারে না। পাশ্ববর্তী মিজোরামে প্রবেশ করতে হলে তাদের পাস লাগে। এখানে তা লাগে না। এটাতো উপজাতি অধ্যূষিত অঞ্চল হতে পারে না। বাইরের যেকোন মানুষ এখন ঠেগামুখ পর্যন্ত চলে যাচ্ছে।

সাবেক এ এমপি বলেন, পর্যটনের নামে এখানকার অধিবাসীদের বাস্তচ্যুত করা হচ্ছে বান্দরবানের মুরং জাতিতে উচ্ছেদের পাঁঁয়তারা চলছে। এ্যামোনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল থেকে পার্বত্য চট্ট্রগাম বিষষক মন্ত্রী বীর বাহাদূর ঊশৈসিং এমপিকে এ ব্যাপারটি দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি আক্ষেপের সাথে আরও বলেন, চুক্তি করা হলেও পাহাড়ে কোন অভিভাবক নেই। আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যানকে প্রতিমন্ত্রীর পদ মর্যাদা দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এখানে কোন কার্যক্রম নেই।

পিসিজেএসএস এই নেতা জানান, সন্তু লারমা নাকি চুক্তি বাস্তবায়নে কোন সহযোাগিতা করছে না। এটা ভুল ধারণা। চুক্তি বাস্তবায়ন করার জন্য তো আমাদের সংগ্রাম। আমরা সেইদিন সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতে সব ছেড়ে দিয়ে চুক্তি করেছি। শান্তির পথে ফিরে এসেছি। কিন্তু পাহাড়ে এখনো চাঁদাবাজি চলছে। তারা কারা আপনারা খুঁজুন।

তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, চুক্তি কি কোন উদ্দেশ্যে প্রণয়নের জন্য নাকি তা থামিয়ে রাখার জন্য করা হয়েছে। পাহাড়ের মানুষ সহজ-সরল। তারা তাদের অধিকার ফিরে পেতে চাই। তারাও স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। আমাদের সাথে দূরুত্ব সৃষ্টি করবেন না। মহৎ উদেশ্যে নিয়ে এগিয়ে আসুন। দেখবেন শান্তি ফিরে আসবে।

তিনি জানান, রাজা ত্রিদিব রায়কে রাজাকার বলা হচ্ছে। যে কারণে তারা মরদেহ এখানে আনতে দেওয়া হয়নি। রাজা ত্রিদিব রায়ের দাদাকে ভারতে আটকে রাখা হয়েছিলো সেই সময়ে। যে কারণে তিনি যুদ্ধে যায়নি। তাকে আজ পাকিস্তান সরকার মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছে। মং সার্কেলের রাজা যুদ্ধে যাওয়ার কারণে তাকে আজ মুক্তিযোদ্ধা বলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এটিএন নিউজ এবং ৭১টেলিভিশনে দেখলাম, সন্ত্রাসীরা পাহাড়ে কিভাবে চাঁদাবাজি করছে তা দেখাচ্ছে। কিন্তু তাকে মুখোশ পড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মানুষ সব বুঝে। হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার করুন। সত্যটা লিখুন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৌখিন চাকমার সভাপতিত্বে এসময় বক্তৃতা করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী ফোরামের সভাপতি প্রকৃত রঞ্জন চাকমা, অ্যাডভোকেট সুষ্মিতা চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি সাংগঠনিক সম্পাদক ভানু মারমা, রাঙামাটি সরকারি কলেজ শাখার পিসিপির সভাপতি জগদীশ চাকমাসহ দলটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + five =

আরও পড়ুন