পেকুয়ায় তীব্র যানজটে জনদুর্ভোগ চরমে, নেই কোন ট্রাফিক ব্যবস্থা

fec-image

কক্সবাজারের পেকুয়ার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কবির আহমদ চৌধুরী বাজার ও পেকুয়া চৌমুহনী এলাকায় তীব্র যানজটের ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এ যানজট নিরসনে প্রশাসনের নেই কোন উদ্যোগ। নেই কোন ট্রাফিক ব্যবস্থা। পাঁচ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে লাগে এক ঘন্টা। আর এ সড়কে যানজট লেগে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বানৌজা শেখ হাসিনা সড়কের পেকুয়া বাজার পয়েন্টের দু’পাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত টমটম পার্কিং করে আছে এবং রাস্তায় যাত্রী উঠা নামা করছে। এমনকি ফুটপাত দখল করে বসেছে মৌসুম ফল বিক্রেতারা। ফলে রাস্তার পরিধি দিনদিন সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এসব অবৈধ দখলকারীদেরকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ করলেও তারা আবার দখল করে বসে ফেরি করে। যার কারণে গাড়ী চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। একটা গাড়ি অন্য একটা গাড়িকে পাশ দিতে পারে না। ফলে পেকুয়া বাজারের পশ্চিম পাশের গোয়াখালী রাস্তার মাথা থেকে পেকুয়া বাজারের পূর্ব পাশে আসতে পাঁচ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে এক ঘন্টা। ঘন্টার পর ঘন্টা যানজট লেগেই থাকে। যানজট নিরসনে নেই কোন ট্রাফিক পুলিশ। এটি দেশের প্রথম বনৌজ শেখ হাসিনা সাবমেরিন ঘাঁটির প্রধান সড়ক। এছাড়াও দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া বাসীর চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২০-৩০ হাজার গাড়ি চলাচল করে। ফলে তীব্র যানজটের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। এ যানজট যেন নিত্য দিনের সঙ্গী। এ থেকে পরিত্রাণ চায় সাধারণ জনগণ ও যাত্রীগণ।

এদিকে পেকুয়া চৌমুহুনী এলাকায়ও যানজট লেগে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। সরেজমিনে এসে দেখা যায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামমুখী একটি এস.আলম সার্ভিস পেকুয়ার চৌমুহনী মোড়ে এসে পৌঁছায়। ডান দিক থেকে একটি সিএনজি ঢুকে পড়াতেই বাসটি আটকে পড়ে ঠিক চৌরাস্তার মোড়ে। এরই মাঝে বাম দিক হতে
পণ্যবাহী একটি নসিমন এসে জটলা বাঁধিয়ে সৃষ্টি করে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির। মিনিট দুয়েকের মধ্যেই চতুর্দিক হতে আসা যাত্রীবাহী বাস, সিএনজি, ইজিবাইক রিক্সা ও পণ্যবাহী ট্রাক এবং টমটমের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ সারির তীব্র যানজট। নিমিষেই এ যানজট মানুষের বিরক্তি ও দুর্ভোগের কারণ হয়ে পরিণত হয় যানজটে। এ যানজটের দৃশ্য দেখা মেলে আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া (এবিসি) সড়ক ও বরইতলী-মগনামা সড়কের মিলিত স্থল পেকুয়া চৌমুহনী মোড়ের স্টেশনে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে এক দশক আগেও এ স্টেশন এতটা গুরুত্ববহ ছিলনা। কালের বিবর্তন আর যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনে এখন জনাকীর্ণ এ স্টেশন। এ স্টেশন হয়েই দৈনিক পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও চকরিয়ার কিছু অংশের প্রায় ১০ হাজার মানুষ চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াত করে। যার প্রেক্ষিতে প্রতিদিন বেলা বাড়ার সাথে সাথেই এ চৌরাস্তার মোড়ে তৈরি হয় তীব্র যানজট।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এক্ষেত্রে চৌমুহনী স্টেশনে এস.আলম, সানলাইন ও বাঁশখালী সুপার সার্ভিসের কাউন্টারগুলোকে যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। কেননা এ তিনটি কাউন্টারের গাড়িগুলোর যাত্রী উঠানামার সময় রাখা হয় সড়কের উপর। এছাড়াও ট্রাফিক পুলিশ ব্যবস্থাপনা না থাকাকেও যানজট সৃষ্টির কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।

এদিকে সচেতনমহল মনে করেন এ নিত্যনৈমিত্তিক যানজট রোধকল্পে তিনটি বাস কাউন্টার অন্যত্রে স্থানাস্থর ও ট্রাফিক পুলিশের কোন বিকল্প নেই। রাস্তা সম্প্রসারণ করে মোড়ে একটি গোল চত্বর তৈরি করা হলে এ যানজট অনেকাংশে হ্রাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা হচ্ছে না।

উল্লেখ্য যে, বরইতলী পেকুয়া মগনামা সড়ক সম্প্রসারণ করতে ৩৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প দেয় সরকার। বানৌজা শেখ হাসিনা সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের নিমার্ণ কাজ প্রায় শেষের পথে। তারপরও যানজট লেগেই আছে।

গাড়ির চালকরা জানান, গাড়ি রাখার জন্য একটি বাস টার্মিনাল না থাকায় রাস্তার আশেপাশে গাড়ি পার্কিং করে রাখায় মূলত এ যানজট সৃষ্টি হয়। আমাদের একটাই দাবি অতি দ্রুত যেন একটি বাস টার্মিনাল করে দেয় সরকার। তাহলে আর যানজট থাকবে না।

এদিকে যাত্রীরা জানান, কবির মিয়া বাজারের পশ্চিম পাশ থেকে পূর্ব পাশে আসতে সময় লাগে ৫ মিনিট কিন্তু এ দীর্ঘ যানজটের কারণে ১ ঘন্টা সময় লেগে যায়। যানজট নিরসনের জন্য উপজেলা প্রশাসন অতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করছি।

এদিকে পেকুয়া বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহেদ ইকবাল বলেন, যানজট নিরসনের জন্য বার বার উপজেলা আইনশৃঙ্গলা কমিটির সভায় তুলে ধরা হচ্ছে। ইউএনও ম্যাম এসে কয়েকবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন। তারপরও যানজট নিরসন হচ্ছে না।

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বারেক বলেন, ট্রাফিক পুলিশ অতি গুরুত্বপূর্ণ পেকুয়া বাজারে তিনজন চৌমুহনী কলেজ গেইট দুইজনসহ মোট পাঁচজন ট্রাফিক পুলিশ ব্যবস্থা করা হলে যানজট আর থাকবেনা। চালকদের অবহেলা ও অযথা পার্কিং করার কারণে এ যানজট। তাই শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশ জরুরি। এ সড়ক শেখ হাসিনার সাবমেরিন ঘাঁটির সড়ক। তাই পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আমাদের একটাই দাবি অতি দ্রুত যেন পেকুয়ায় ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়। একটি সময় নির্ধারিত করতে হবে বাজার ব্যবসায়ীদের মালামাল লোডআনলোড করতে।

এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পেকুয়া বাজার ও চৌমুহনী এলাকার যানজটের বিষয়ে গত আইন শৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ট্রাফিকের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জেলা পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করবেন।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরহাদ আলী বলেন, পেকুয়া বাজার ও চৌমুহনী স্টেশনে যানজট নিরসনে পুলিশের যতটুকু সম্ভব তা চেষ্টা করা হচ্ছে।তারপরও ট্রাফিক পুলিশের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা বলেন, পেকুয়া বাজার ও চৌমুহনী এলাকার যানজটের বিষয়ে গত আইন শৃঙ্খলা সভায় আলোচনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। আমি বেশ কয়েকবার ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য পেকুয়া বাজার ও চৌমুহনীতে অভিযান পরিচালনা করেছি আবার অনেক জনকে জরিমানাও করেছি এ অভিযান অব্যাহত আছে। শীঘ্রই যানজট নিরসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 + 5 =

আরও পড়ুন