বর্ষায় ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত

fec-image

মৌসুমি বর্ষায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আন্তঃ সমন্বয় গ্রুপ (আইএসসিজি)। এই গ্রুপে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডাব্লিউএফপি) পাশাপাশি সরকার সমর্থক এনজিওগুলোও রয়েছে।

আইএসসিজি কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মৌসুমি বর্ষা মোকাবিলায় কাজ করছে। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) একটি যৌথ বিবৃতিতে চলমান মৌসুমি বর্ষায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি তুলে ধরে আইএসসিজি।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, চলতি সপ্তাহের শনিবার থেকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে তীব্র বৃষ্টি ও বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। তবে শিবিরগুলোতে কোনো আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শরণার্থী এলাকায় ১৫টি ভূমিধস, ২৫টি বাতাস-ঝড়ো বাতাস এবং পাঁচটি বন্যার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে রোহিঙ্গা এলাকার চার হাজার ৫৪৩টি পরিবারের ১৪ হাজার ৮০১ জন সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া ৪২৭টি আশ্রয় কেন্দ্রের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। আর ৬৬টি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে টেকনাফ এলাকায় ভূমিধসের পরে দুই বাংলাদেশি শিশু নিহত ও দশজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আইওএম বাংলাদেশ মিশনের উপ প্রধান ম্যানুয়েল পেরেইরা বলেছেন, বৃষ্টি ও বাতাস জীবনকে বিপন্ন করে তোলে। আমাদের কর্মীরা জরুরি পরিসেবা, মেরামত ও স্থানান্তরের জন্য ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা দীর্ঘমেয়াদী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকি নিরসনের দিকে মনোনিবেশ করছি।

গত মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায় চার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়। শুধুমাত্র টেকনাফ অঞ্চলের ২৬টি ক্যাম্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ১৫টি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির মাধ্যমে তাদের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

ইউএনএইচসিআর-এর কর্মীরা সব রোহিঙ্গাকে নিরাপদে রাখার জন্য কাজ করছে। এছাড়া বন্যার ফলে পৃথক হয়ে পড়া পরিবারের সদস্যদের পুনরায় একত্রিত করছে। ক্যাম্প এলাকায় আশ্রয়, খাবার এবং বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের ইউএনএইচসিআর প্রধান মেরিন ডিন কাসডম্যাক বলেছেন, আমরা বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করার জন্য অংশীদার এবং সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। আমরা প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তারা যেনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও দুর্যোগে কমিউনিটির মধ্যে ঝুঁকি হ্রাস করতে পারেন।

কক্সবাজার জেলা বাংলাদেশের সর্বাধিক বার্ষিক বৃষ্টিপাত এলাকা। এছাড়া সেখানে ভূমিধস, বন্যা, বাতাস এবং জলাবদ্ধতা সাধারণত দেখা যায়ই।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বর্ষায়, রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 + fifteen =

আরও পড়ুন