বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সামনে কুরআনের যে ৩টি আয়াত তিলাওয়াত করলো ইরান

fec-image

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় উপস্থিত বিভিন্ন দেশ থেকে উপস্থিত প্রতিনিধিদলের সদস্যরা শ্রদ্ধা জানানোর সময় কুরআনের ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তিলাওয়াত শোনায় ইরান কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের জন্য তিলাওয়াত করা হয় সুরা আল-আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত ও সুরা আল-ইমরানের আয়াত ১৬৯, ১৭০ নম্বর আয়াত।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের পক্ষে শ্রদ্ধা জানাতে তেহরান যান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। স্পিকারের শ্রদ্ধা জানানোর সময় তিলাওয়াত করা হয় সুরা আল-আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত। যেখানে বলা হয়েছে- “মুমিনদের মধ্যে এমন পুরুষ রয়েছে যারা আল্লাহর কাছে যা অঙ্গীকার করেছিল তা সত্যে পরিণত করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার অঙ্গীকার পূরণ করেছে (শাহাদাতের মাধ্যমে), আর কেউ কেউ অপেক্ষায় রয়েছে। তারা কোনো পরিবর্তন করেনি।”

তাছাড়া ইরান সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে দেশটিতে সফরে যাওয়া প্রতিনিধিদলে রয়েছেন—মো. নুরুল আমীন এমপি, ড. মো. কেরামত আলী এমপি ও ডা. এস এম খালিদুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এমপি সাইদউদ্দিন আহমাদ হানজালা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তারা যখন খামিনিকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন তখন তিলাওয়াত করা হয় আল-ইমরানের ১৬৯ ও ১৭০ নম্বর আয়াত।

আল-ইমরানের ১৬৯ বলা হয়েছে- “আর আল্লাহর পথে যারা নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত মনে করো না; বরং তারা তাদের রবের কাছে জীবিত, রিযিকপ্রাপ্ত।” আর আল-ইমরানের ১৬৯ বলা হয়েছে- ”আল্লাহ তাদেরকে যে অনুগ্রহ করেছেন, তাতে তারা খুশি। আর তারা উৎফুল হয়, পরবর্তীদের থেকে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি তাদের বিষয়ে। এজন্য যে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।”

সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের জন্য তিলাওয়াত করা হয় সূরা আল ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা করা হয়। এ আয়াত তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইরান সৌদি আরবকে একটি প্রতীকী বার্তা দিতে চেয়েছে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে।

পবিত্র কুরআনের ৩ নম্বর সুরার এই ১৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- ”তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে সেই দু’দল সৈন্যের মধ্যে যারা পরস্পর প্রতিদ্বন্দীরূপে দাঁড়িয়েছিল (বদর প্রান্তরে)। একদল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল এবং অপরদল ছিল কাফির, কাফিররা মুসলিমদেরকে প্রকাশ্য চোখে দ্বিগুণ দেখছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে স্বীয় সাহায্যের দ্বারা শক্তিশালী করে থাকেন, নিশ্চয়ই এতে দৃষ্টিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।”

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইরান, কুরআনের আয়াত, খামিনির জানাজা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন