বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে মেয়র পদে বিএনপি নেতা

fec-image

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ খাজা। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সাধারণ বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে, অনেকে আবার প্রশ্ন তুলছেন একজন ব্যক্তির কয়টি রাজনৈতিক পরিচয় থাকে।

কেননা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ খাজা বিএনপি থেকে পদত্যাগ না করেই পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের ব্যানারে নির্বাচন করছেন। বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর প্রশাসক নিজাম উদ্দিন বাবু বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করা দুঃখজনক, জেলা কমিটির সাথে কথা হয়েছে দ্রুত তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এই সরকারের অধীনে স্থানীয় ও জাতীয় কোন প্রকার নির্বাচনে অংশ নিবেনা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। কিন্তু বাঘাইছড়ি পৌর নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ খাজা ও যে সকল বিএনপি নেতা পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের বিষয়ে অবশ্যই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

উপজেলা ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি মো. আজগর আলী বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশনার আলোকে সকল প্রকার নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা থেকে দূরে আছি, দায়িত্বশীল পদে থেকে রহমত উল্লাহ খাজার এমন কান্ডে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অবাক হয়েছি। উপজেলা বিএনপির সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, রহমত উল্লাহ খাজা নিজেকে বিএনপির পরিচয় দিলেও বিএনপির কোন নেতাকর্মী নির্বাচনী প্রচারণায় তার সাথে নেই, তার এমন সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ বিএনপি কর্মীরা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের বাঘাইছড়ি কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম বলেন, রহমত উল্লাহ খাজার প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নাগরিক পরিষদের কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। সে বিএনপিরও নেতা। পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে সমর্থন দিয়েছে শুনেছি, নির্বাচনে এমন দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের কারণে আমরা সাধারণ জনেগণের প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি।

সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন সোহেল বলেন, রহমত উল্লাহ খাজার নাগরিক পরিষদে পদ পদবী নিয়ে আসার আগে তার সাথে এই সংগঠনের কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। সে কীভাবে জেলা, উপজেলা ও কেন্দ্রীয় পদে সংযুক্ত হয়েছে সেটাও আমাদের জানা নেই, পাহাড়ে আঞ্চলিক সংগঠন করে ৮ টি মামলা খেয়েছি, হামলার শিকার হয়েছি কিন্তু যখন কমিটি গঠন করা হয় তখন আমাদের স্থান হয় পেছনে, পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে যাকে মনোনীত করেছেন তিনি বিএনপিরও নেতা, তার পরেও সংগঠনের মায়ায় কাজ করে যাচ্ছি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি সাব্বির আহম্মেদ বলেন, প্রার্থী বাছাই সকলের মতামতের ভিত্তিতেই হয়েছে তবে চূড়ান্ত বাছাইয়ের দিন বাঘাইছড়ি কমিটির মতামত নেয়া হয়নি। আর বিএনপি যেহেতু নির্বাচন বয়কট করেছে তাই রহমত উল্লাহ খাজা এখন নাগরিক পরিষদের প্রার্থী। বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে শুধু রহমত উল্লাহ খাজাই নয় ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আলম, ৬ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে সেচ্ছাসেবক দলের আহব্বায়ক নুর উদ্দিন ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইউছুফ নবী, ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে পৌর যুবদলের যুগ্ম আহব্বায়ক ওমর ফারুক নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলী বলেন, নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি রহমত উল্লাহ খাজাসহ প্রার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয়, এখানে বিএনপির কোন সংশ্লিষ্টতা নেই, তাদের বিষয়ে জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ ব্যবস্থা নিবেন।

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিল আহম্মেদ বলেন, আপনারা জানেন এই সরকারের আমলে দেশের কোথাও বিএনপি কোন নির্বাচনে অংশ নেয়নি। বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ খাজা ও কতিপয় বিএনপি নেতাদের দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আমাদের জন্য দু:র্ভাগ্যজনক, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কথা হয়েছে দুই একদিনের মধ্যেই শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ খাজার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি পৌরবাসীর জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। তাছাড়া জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক বরাবরে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েই মেয়র পদে দাঁড়িয়েছি , যেহেতু পদত্যাগ পত্র দিয়েছি তাই এ বিষয়ে আমার আর কোন মতামত নেই।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পৌরসভা, বাঘাইছড়ি, বিএনপি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − 7 =

আরও পড়ুন