বোধিবৃক্ষে শুদ্ধজল ঢেলে বান্দরবানে বুদ্ধ পূর্ণিমা পালন

fec-image

ধর্মীয় ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে পালিত হয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজগুরু বৌদ্ধ প্রাঙ্গণ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়ে রাজার মাঠ প্রাঙ্গণ হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বোধিবৃক্ষতলে গিয়ে সমবেত হন।

এ সময় শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষসহ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। বিভিন্ন ধরনের পাত্রে চন্দন জল, ফুল, জাম পাতা এবং বৃক্ষ সজ্জিত টাকা নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

শোভাযাত্রা শেষে বোধিবৃক্ষমূলে সমাবেত হয়ে পঞ্চশীল, অষ্টশীল গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনার মুক্তি লাভের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

এ সময় ধর্মদেশনা দেন রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত কেতু মহাথেরো। ধর্মদেশনা শেষে রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার, উজানী পাড়া বৌদ্ধ বিহার, রামজাদী, স্বর্ণ মন্দির বিহারে উপাসক-উপাসিকা বিহারে সমবেত হয়ে পূণ্যলাভের জন্য বোধিবৃক্ষমূলে চন্দন জল ঢালানো হয়।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মতে, বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক মহাকরণিক গৌতম বুদ্ধত্ব লাভের জন্য ২৯ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করেছিলেন। এই দিনে নিরঞ্জনা নদীর তীরে এক বটবৃক্ষ মূলে ৬ বছর কঠোর তপস্যার পর বুদ্ধত্ব লাভ করেন।

গৌতম বুদ্ধ আজ থেকে ২৫৬০ বছর আগে জগতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। মহামানব গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহা পরিনির্বাণসহ ত্রিস্মৃতির বিচরিত লাভ হওয়ায় প্রতি বছর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিকে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বৌদ্ধ পূর্ণিমা হিসাবে পালন করছে।

বোধিবৃক্ষমূলে চন্দন জল ঢালতে যাওয়া শৈখ্যাইনু, উমেসিংসহ কয়েকজন বলেন, ‘গৌতম বুদ্ধ ত্রি-স্মৃতি বিচরিত বলে এই দিনটি আমাদের কাছে অন্যতম পূর্ণিমা দিন। সকাল থেকে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছি। এই ধর্মীয় দিনে বোধিবৃক্ষমূলে চন্দন জল ঢালার মাধ্যমে পাহাড়ের অশান্তি মুছে দিয়ে শান্তি ফিরে আসুক এই প্রত্যাশা করছি।’

রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধভিক্ষু নাইচেরিয়া বলেন, ‘এই পবিত্র তিথিতে বিহারে বিহারে ধর্ম দেশনা, সন্ধ্যায় প্রদীপ পূজা, হাজারবাতি উৎসর্গ ও দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি এবং বিশ্বশান্তি কামনার পাশাপাশি ধর্মদেশনা দিয়ে দেশবাসী ও সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করা হবে।’

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পাহাড়, বান্দরবান, বুদ্ধ পূর্ণিমা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন