মাতারবাড়িতে বাস্তুহারাদের ঠাঁই হয়েছে লামার ফাইতং পাহাড়ে !

fec-image

মহেশখালীর মাতারবাড়িতে উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে নিজের বসত ভিটা ছেড়ে অচেনা জায়গায় বসতি গড়েছে অনেকেই। এই বাস্তুহারাদের কেউ রাখেনা খবর এবং তাদের বিষয়ে কোন সঠিক তথ্য নেই মাতারবাড়ির ইউনিয়ন পরিষদে।

সরেজমিন পরির্দশনে গিয়ে দেখা যায়, অভাব, অনটন ও দূর্ভোগে কাটছে তাদের জীবন। তাদের শেষ সম্বল বাড়িভিটা হারিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের লামা উপজেলার ফাইতং এর পাহাড়ি এলাকায়। চকরিয়া উপজেলা থেকে বানিয়াছড়া হয়ে ৫ কিলোমিটার পূর্বে ফাইতং ইউনিয়নের অবস্থান।

বাস্তুহারাদের একজন মৃত খোরশেদ আলমের পুত্র ৫৫ বছর বয়সি মো: ইউনুচ বলেন, আমার জন্ম বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগে। আমার বয়স যখন ১৩ বছর তখন অভাবের তাড়নায় ঘর ছাড়ি। ১৯৭৪ সালে দেশে যখন দূর্ভিক্ষ শুরু হয় তখন খাদ্যের অভাবে এক সাম্পানওয়ালার সাথে বরিশাল থেকে চট্টগ্রামের সন্দিপ দ্বীপে চলে আসি। সন্দিপ থেকে কাজের সন্ধানে মাতারবাড়ি দ্বীপে আসার পর থেকে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাচ কাটার কাজ করে কোন রকমে যুবক বয়সে এসে পড়ি।  তখন থেকে মাতারবাড়ির নয়াপাড়ায় আমার বসতবাড়ি ও সংসার করে জীবন পার করি।

২০১৪ সালে কয়লা বিদ্যুৎ হওয়ার পর থেকে কোন ধরনের কাজ না পেয়ে আমি বেকার হয়ে পড়ি ফলে বউ বাচ্চা নিয়ে অনাহারে দিনযাপন করতে থাকি দিনের পর দিন।

২০১৭ সালে একটি দূর্ঘটনায় আমার একটি হাত ভেঙ্গে গেলে আয় রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যায়, আমার সংসার জীবনে ৬ মেয়ের জনক আমি , ৪টি মেয়ে বিয়ে দিয়েছি বহু কষ্টে বাকি ২টি মেয়ে নিয়ে এখন সংসার পাহাড়ে।

তিনি আরো জানান, ২০১৮ সালে প্রবল জোয়ারের ঢেউয়ে আমার বসতবাড়িটি ভেঙ্গে গেলে আমি নিরুপায় হয়ে লামার পাহাড়ি এলাকায় একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। মাতারবাড়িতে আমার দীর্ঘ ৫৬ বছর থাকাকালীন সময়ে আমি কোন ধরনের সরকারি সহায়তা পাইনি।

তার মতো অনেকেই মাতারবাড়ি ছেড়ে বাস্তুহারা হয়ে ফাইতং পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেছে।
২০০৮ সালে ফাইতং এলাকার আশ্রয় গ্রহণ করা মাতারবাড়ির সাইরার ডেইল এলাকার আব্দুল মান্নান জানান, ২০১৪ সাল থেকে ১৯ সাল পর্যন্ত মাতারবাড়ির বিভিন্ন গ্রাম থেকে ফাইতং এ পাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে শতাধিক পরিবার, তাদের কোন খবর রাখেনা কোন জনপ্রতিনিধি বা সরকারি আমলারা। নারী পুরুষ অনেকেই কেউ জেলে কেউ বা ইটবাটায় দিন মজুরের কাজ করে কোন রকমের দিনাতিপাত করছে এই ভয়ংকর পাহাড়ি এলাকায়।  তাদের প্রতি একটু সহানুভূতি দেখার আহবান জানান তিনি।

এই বিষয় নিয়ে কথা হয় মাতারবাড়ির ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহর সাথে। তিনি জানান, মাাতারবাড়ির এলাকার কিছু মানুষ বাইরে চলে গেছে এটা ঠিক তবে কি পরিমাণ চলে গেছে তা আমাদের কাছে কোন সঠিক তথ্য নেই কারণ তারা তো আমাকে বলে যায়না। প্রকল্পের টাকা পেয়ে অনেকেই বাইরে জমিজমা কিনে বসত বাড়ি স্থাপণ করেছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইউনিয়ন পরিষদ, বাস্তুহারা, মাতারবাড়িতে উন্নয়ন প্রকল্প
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × five =

আরও পড়ুন