মানিকছড়িতে ভিজিডি’র চাল বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ

fec-image

মানিকছড়িতে দুঃস্থ মহিলাদের উন্নয়নে বরাদ্ধকৃত ভিজিডি’র এপ্রিল মাসের বরাদ্ধকৃত আতপ চাউল কালোবাজারে বিক্রি করে নিম্নমানের পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত সিদ্ধ চাল বিতরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর আপাদত বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. কামরুল আলম।

সরেজমিন ও বরাদ্দপত্র অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকার দেশব্যাপী দুঃস্থ মহিলাদের উন্নয়নে (ভিজিডি) কর্মসূচির আওতায় মানিকছড়ি উপজেলার ৪ ইউপিতে সুবিধাভোগী রয়েছে এক হাজার ৪শত ৬৪ জন নারী। তারা প্রতি মাসে সরকার ঘোষিত ৩০ কেজি হারে খাদ্যশস্য (চাউল) ভোগ করে আসছেন। ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে মানিকছড়ি খাদ্য গুদামে যোগদানকৃত ওসিএলএসডি মো. শামীম উদ্দীন এই গুদামে আসার পর সরকারী রেশনভোগকারী গুচ্ছগ্রাম কার্ডধারী, ভিজিডি ও ভিজিএফ উপকারভোগী এবং ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীরা রেশন উত্তোলনে নানা হয়রাণীসহ নিন্মমানের চাউল পেয়ে আসছে। বাজারে যে চাউলের বাজারদর বেশি সেটি কালোবাজারে পাচার করে ওসিএলএসডি রেশনকার্ডধারীদের মাঝে কমদামী চাউল গুদাম থেকে ছাড় করার একটা রীতি চালু করেছেন এই গুদামরক্ষক ও সূক্ষকালোবাজারী মো. শামীম উদ্দীন।

এরই ধারাবাহিক অংশ হিসেবে চলতি এপ্রিল মাসের ভিজিডি’র খাদ্যশস্যের অপর্ণাদেশপত্রে গত ১১ এপ্রিল স্বাক্ষর করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না মাহমুদ। ফলে একই দিন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জুলিয়াস চাকমা ডিও নং ৬৫৩৯১৬৮- ৬৫৩৯১৭১ এ ছাড়পত্র প্রদান করেন। উক্ত ছাড়পত্রে আতপ চাউল বিতরণের নিদের্শনা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে ওসিএলএসডি সেই আপত চাউল কালো বাজারে পাচার করে দিয়ে প্রতিনিয়তের ন্যায় নিন্মমানের পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত সিদ্ধ চাউল ধরিয়ে দেন প্রকল্প চেয়ারম্যানদেরকে। যা ১৮ এপ্রিল থেকে ১ মানিকছড়িতে সুবিধাভোগী ৫শ কার্ড, ২নং বাটনাতলী ইউপিতে ২শত ৯০ কার্ড, ৩নং যোগ্যাছোলা ইউপিতে ৩শত ৯ কার্ড ও ৪নং তিনটহরী ইউপিতে ৩শত ৬৫ কার্ডধারী দুঃস্থ মহিলার মাঝে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প চেয়ারম্যান/ ইউপি সচিবগণ। গত জানুয়ারী-মার্চ-২০২১ মাসের ন্যায় এবারও চাউল সিদ্ধ,পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় দুঃস্থ মহিলারা চাউল নিতে এসে বস্তা খুলে দেখেন এবং প্রতিবাদ করেন।

এতে বিপত্তিতে পড়েন সচিবগণ। দুঃস্থ মহিলা (উপকারভোগী) ও ইউপি সচিবরা জানান, এই খাদ্যগুদামে ওসিএলএসডি মো. শামীম উদ্দীন আসার পর হতে ছাড়পত্রে যাই থাকুক না কেন তিনি সব সময় বাজারদর কম থাকা সিদ্ধ চাউল গুদাম থেকে ছাড় করেন। প্রতিবাদ করলে সোজা সাপ্টা জবাব কাগজে থাকলে কী হবে গুদামে যা আছে, তাই নিতে হবে! চাউল কী ওসিএলএসডি বানাবে? এভাবে উপকারভোগীদের কাবু করে ওসিএলএসডি কালোবাজারী ব্যবস্থার সাথে জড়িয়ে পড়ছে।

এ নিয়ে ১৮ এপ্রিল বিকালে পার্বত্যনিউজে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না মাহমুদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন খোঁজ-খবর নিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না মাহমুদ আপাতত বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে প্রকল্প চেয়ারম্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. কামরুল আলমকে নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. কামরুল আলম বলেন, ১৯ এপ্রিল সকালে ইউএনও তামান্না মাহমুদ সরেজমিনে যাবেন। তাই সেই সময় পর্যন্ত যাতে কেউ আর চাউল বিতরণ না করেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − 2 =

আরও পড়ুন