টেকনাফের লম্বাবিল গ্রামে শোকের ছায়া, সীমান্ত সুরক্ষায় উদ্বেগ

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফা মারা গেছে

fec-image

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান (১২) মারা গেছেন। গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্তের কাছে হুজাইফা গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিল।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিল। শনিবার সকালে সে মারা যায়।

নিহত আফনান কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে।

নিহত শিশুর চাচা এরশাদ বলেন, “গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সেখান থেকে ঢাকায় জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এতদিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ সকালে সে মারা যায়।”

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি সকালে হোয়াইক্যং সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের তোতারদ্বীপ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে মিয়ানমার থেকে ছোড়া একটি গুলি এসে আফনানকে বিদ্ধ করে। গুলিটি তার কানে লাগে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

ঘটনার পর শিশুটিকে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হলেও পরে নিশ্চিত করা হয় সে জীবিত ছিল এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম ও পরে ঢাকায় পাঠানো হয়।

পার্বত্যনিউজের টেকনাফ প্রতিনিধি জানান, আহত হুজাইফাকে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিক ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে বুলেটের গভীর ক্ষতের কারণে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১৩ জানুয়ারি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় আনা হয়।

ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সে আইসিইউ-তে (ICU) লাইফ সাপোর্টে ছিল।​ হুজাইফার মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছালে টেকনাফ ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে লম্বাবিল গ্রামের পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, সীমান্তের ওপার থেকে আসা অবিরাম গুলিবর্ষণে সাধারণ নাগরিকদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

নিহত হুজাইফার চাচা শওকত মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে ঢাকা থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে নিহত হুজাইফাকে নিয়ে রওয়ানা করবেন।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম স্কুলছাত্রী হুজাইফার মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছেন বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: টেকনাফ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন