ম্রো সম্প্রদায়কে উসকিয়ে সেনাবাহিনীর নামে অপপ্রচার

fec-image

গত ৮ নভেম্বর বান্দরবান শহর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ে প্রায় ২০ একর ভূমি দখলের নামে অযৌক্তিক দাবি তুলে কালচারাল শোডাউন করেছে একদল ম্রো জনগোষ্ঠী। অথচ সেখানে ম্রোদের উচ্ছেদ করে ভূমি দখলের মতো কোনো ঘটনার আভাসই পাওয়া যায়নি। সন্ত্রাসী চেতনায় উদ্বুদ্ধ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন (সিএইচটি কমিশন) একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বান্দরবানে সেনাবাহিনী ও সিকদার গ্রুপ কর্তৃক আটটি গ্রামের কথিত ম্রো জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদের মুখে ঠেলে দিয়ে ফাইভ-স্টার (পাঁচ তারকা) হোটেল নির্মাণের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি অবিলম্বে উক্ত উন্নয়ন প্রকল্পটি বাতিল এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে যেকোনো পর্যটন প্রকল্পের জন্য স্বাধীন ও পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী জেলা পরিষদের আইন মেনে পূর্বাবহিত সম্মতির ভিত্তিতে সমাজের জন্য অধিকতর উদ্বেগমুক্ত স্থান নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে।

আন্দোলনরত জনগণের মতে, সেনাবাহিনী ৮০০ একর জমির উপর রিসোর্ট তৈরীর পরিকল্পনা করছে। প্রকৃত তথ্য হলো: সরকারের কাছ থেকে বৈধভাবে মাত্র ২০ একর জমি লিজ নেয়া হয়েছে। উক্ত ২০ একর জমির কোন ব্যক্তি মালিকানা নেই এবং জায়গাটি সম্পূর্নরূপে সরকারের খাস জমি। এসবই হচ্ছে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের অসাধু ইচ্ছা চরিতার্থের ফন্দি। ১২ জুন ২০১৬ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে সিকদার গ্রুপ ও আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট পরিত্যক্ত এই জমিতে পাঁচ তারকা বিশিষ্ট একটি রিসোর্ট তৈরির পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার পূর্বেই জায়গা নির্বাচন এবং ভূমির মালিকানা যাচাই করা হয়। মালিকানা না থাকায় জায়গাটি বান্দরবান জেলা পরিষদের অনুমতিক্রমে ৩৫ বছরের জন্য লিজ নেয়া হয়।

বান্দরবান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি লীলাভুমি। এখানে দেশী ও বিদেশী ভ্রমনপিয়াসু পর্যটকদের থাকার মত কোন মানসম্মত হোটেল নেই। সেখানে একটি পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা একটি মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এই মহৎ উদ্দেশ্যকে বানচাল করার লক্ষ্যে উসকিয়ে দিয়েছে উপজাতি ম্রো গোষ্ঠীকে। নানা প্রকার অপপ্রচার এবং মগজধোলাই দেয়া হচ্ছে নিরীহ এই ম্রোদের যেন তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে।

আমরা দেখেছি নীলগিরি এবং সাজেক বানানোর সময় একই ধরনের আন্দোলন করা হয়েছিল। সাজেক নির্মানের সময় তুমুল আন্দোলন করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল। হামলা, দর্শনার্থীদের অপরহণ, অগ্নিসংযোগ সবই করেছে। এমনকি রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর সময়েও একই ধরনের আন্দোলন করেছে। আর এখন এসব জায়গাকে অবলম্বন করে বিরোধিতাকারীরাই তাদের ব্যবসা বাণিজ্য খুলে বসেছে। রাস্তার দু’পাশে রেস্তোরাঁ, ফলের দোকান, পরিবহন সব কিছুর মালিক স্থানীয় উপজাতি নেতারা। সাধারণ উপজাতিদের তাদের আয় বেড়েছে, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে।

তাই এসব মিথ্যাচার পরিহার করে একটি মহৎ উদ্দেশ্যকে আপন করে নেয়া উচিত।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + seven =

আরও পড়ুন