শ্রাবস্তী রায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির প্রথম নারী জেলা প্রশাসক

fec-image

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম বান্দরবান; খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির প্রথম নারী জেলা প্রশাসক শ্রাবস্তী রায়। তিনি চাকমা সম্প্রদায়ের। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি থেকে একাধিক পুরুষ কর্মকর্তা ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেলেও নারী হিসেবে শ্রাবস্তী রায় প্রথম নিয়োগ পেয়েছেন।

তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ২৪তম ব্যাচের একজন কৃতি সদস্য এবং রাঙামাটি জেলার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম এর স্বনামধন্য একজন চিকিৎসক।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রাবস্তী রায় এক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে বলেন, বদলি-পদায়ন প্রশাসনের একটি নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। পাহাড়িদের মধ্যে প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে আমাকে পদায়নের জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নারীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার সুযোগ প্রদান করার প্রধানমন্ত্রীর যে নির্দেশনা ছিল, সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ এই সিলেকশন বোর্ডগুলোতে যারা থাকেন তারা যে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন, আমাদের কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন, এ জন্য আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব কে. এম আল-আমীন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শ্রাবস্তী রায় (১৫৭৬৬)কে জামালপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে তিনি কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছিলেন।

শ্রাবস্তী রায় (১৫৭৬৬) গত ৬ এপ্রিল কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এর কার্যভার গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) হিসাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

তারও আগে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক ছিলেন।

এছাড়াও তিনি রাঙ্গামাটি আঞ্চলিক পরিষদের সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা ও ধর্মপাশার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সরকারের উপ-সচিব পদ মর্যাদার কর্মকর্তাদের জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। জেলা পর্যায়ে ডিসিরা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন।

ডিসি জেলার সাধারণ প্রশাসনিক কার্যক্রম, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং কালেক্টর হিসেবে ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো দেখেন। এছাড়া নির্বাচিত সরকারের বিশেষ কর্মসূচি এবং চলমান সব উন্নয়নমূলক কাজে জেলা প্রশাসক তদারকি করে থাকেন।

উল্লেখ্য, ১৯ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব কে.এম আল-আমীন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে শ্রাবস্তী রায়সহ একই পদমর্যাদার ৪ জন বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তাকে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসক পদে পদায়ন করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × four =

আরও পড়ুন