স্বাস্থ্য সূচকে বিভাগীয় পর্যায়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল প্রথম

fec-image

চিকিৎসক ও লোকবল সংকটের মধ্যেও খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল এখন চিকিৎসা সেবায় সারা দেশে মডেল। স্বাস্থ্য সূচকে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম ও সারা দেশে ১১তম। ঔষধের পাশাপাশি ২৪ ঘন্টা ইসিজি সুবিধাসহ এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফী ও প্যাথলজি চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে রোগিরা। হামপাতালের পরিচ্ছন্ন টয়লেট, ভিতরে-বাইরে ঝক-ঝকে ড্রেন-ফ্লোর। পুরো হাসপাতালটিই পরিপাটি ও সাজানো-গোছানো।চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতায় হাসপাতালটিতে আমূল এই পরিবর্তন। এমন পরিবর্তনে হাসপাতালে আসা রোগিরাও খুশি।

১০০ শয্যার খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ৪৩ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র ১২ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। এছাড়াও হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ ৪৭টি অন্যান্য পদ খালি। তা সত্বেও চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতায় এ হাসপাতলে চিকিৎসা সেবায় কোন ঘাটতি নেই। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন শৌচাগার। দালাল ও দুর্গন্ধমুক্ত হাসপাতালের পরিবেশ রোগিদের মুগ্ধ করছে।
খাগড়াছড়ি হাসপাতালে ঔষধের পাশাপাশি কম খরচে ২৪ ঘন্টা ইসিজি সুবিধাসহ এক্স-রে,আল্ট্রাসনোগ্রাফী ও প্যাথলজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন হাসপাতালে আসা রোগিরা।

বিজিতলা থেকে আসা রোগি জরিনা বেগম জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান বদলে গেছে। ডাক্তার ও নার্সরা অত্যন্তত আন্তরিক। ৯০ ভাগ ঔষধই হাসপাতালে পাওয়া যায়।

ইসিজির টেকনিশিয়ান মো: মাহাজারুল ইসলাম জানান, খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে মাত্র ৮০ টাকায় ইসিজি সেবা দেওয়া হচ্ছে।

প্রায় ৮ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত খাগড়াছড়ি জেলার এ হাসপাতালটির উপর নির্ভর করে পাশ্ববর্তি রাঙামাটি জেলার দুই উপজেলার বাসিন্দারাও। সাম্প্রতিক ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবও সিমিত সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে সফলতার সাথে সামাল দেওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়নময় ত্রিপুরা জানান, চিকিৎসকসহ আমরা সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এখন একই পরিবারের সদস্যের মতো। স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌরসভা মেয়রসহ সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় হাসপাতালের সেবার মান আমুল পরিবর্তনে সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, খাগড়াছড়ি হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি আধুনিক মানের ৫০০ এমএম ডিজিটাইল। হাসপাতালে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্যাথলজি সুবিধা রয়েছে। রয়েছে কম খরচে আল্ট্রাসনোগ্রাফী পরীক্ষার সুবিধা।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী জানান, খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ১০০ শয্যার অনুকূলে ডাক্তারসহ প্রয়োজনীয় জনবল আনার চেষ্টা করছি। এরপর চেষ্টা থাকবে খাগড়াছড়ি সদর আধুনিক হাসপাতালে নিবিড় আইসিইউ ও কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালুর। তবে সবার আগে প্রয়োজন ১০০ শয্যার অনুকূলে ডাক্তারসহ প্রয়োজনীয় জনবল পোস্টিং এবং নির্মাণাধীন ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি, চিকিৎসা সেবায়
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × one =

আরও পড়ুন