ভিন্ন উপজেলায় চলে কার্যক্রম

ঈদগাঁও উপজেলার ১৫টি দফতর চালু হয়নি দুই বছরেও

fec-image

অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে পর্যাপ্ত সেবা মিলছে না

কক্সবাজারের নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলা প্রশাসনের সিংহভাগ দফতর স্থাপন না হওয়ায় পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে নাগরিক সুবিধা নিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে উপজেলার লাখো জনগণ ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশের নবগঠিত ৪৯৫তম উপজেলা হচ্ছে ঈদগাঁও। এ উপজেলার জন্য অনুমোদিত দফতর সেটআপ হচ্ছে চব্বিশটি। যদিওবা অতি স্বল্প সংখ্যক দফতর ও জনবল নিয়ে প্রায় দুই বছর পূর্বে ভাড়া ভবনে এ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যক্রম শুরু হয়। বিগত দীর্ঘ সময়েও সেটআপের পনেরটি দফতর এখনো স্থাপন হয়নি। চব্বিশটি দফতরের মধ্যে নয়টির কার্যক্রম চললেও সেখানেও পর্যাপ্ত জনবল নেই। এর মধ্যেও দুটি’র কার্যক্রম চলে ভিন্ন উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অতিরিক্ত দািয়ত্বে।
উপজেলা প্রশাসনের যে দফতরগুলো এখনো স্থাপন হয়নি সেগুলো হলো- ভূমি, হিসাবরক্ষণ, শিক্ষা, প্রকৌশল, আনসার ও ভিডিপি, খাদ্য, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ( হাসপাতালসহ), কৃষি, প্রাণী সম্পদ, মৎস, মহিলাবিষয়ক অফিস, পল্লী উন্নয়ন, মাধ্যমিক শিক্ষা ও উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস।
নবগঠিত এ উপজেলায় এখনো পর্যন্ত উক্ত দফতরগুলো স্থাপন না হওয়ায় ভিন্ন উপজেলা ও জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্বে দফতরগুলোর কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলছে। যা সেবা ও সুবিধা প্রার্থী উপজেলাবাসীর ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভিন্ন উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তাদের উপজেলার দফতরেই ওই উপজেলার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
ভোগান্তির শিকার সচেতন জনগণের দাবি, স্থায়ী উপজেলা কমপ্লেক্স না হওয়া পর্যন্ত ভাড়া ভবনে হলেও ওই গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলো স্থাপন করে জনভোগান্তি লাগবে ব্যবস্থা নেয়া হোক।
উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবুল কালাম বলেন, উপজেলার সব দফতর দীর্ঘ সময় পরও স্থাপন না হওয়ায় জনগণ উপজেলার পূর্ণাঙ্গ সুফল ভোগ করতে পারছে না। তাই তিনি জনগণের কষ্ট লাগবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী উপজেলা আমীর মওলানা ছলিম উল্লাহ জিহাদী উক্ত বিষয়ে বলেন, উপজেলার নাগরিক সুবিধার পূর্ণ স্বাদ এখনো জনগণ পাচ্ছে না। তাই জনগণ ভোগান্তি উত্তরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।
ইসলামপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মওলানা দেলোয়ার হোসাইন বলেন, উপরোক্ত অফিসগুলো স্থাপন হলে নাগরিক সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
ঈদগাহ জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন জানান, উপরোক্ত গুরুত্বপূর্ণ অফিস গুলো চালু হলে জনভোগান্তি লাঘব হবে। এর পাশাপাশি উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম বেগবান করতে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা দফতর স্থাপন অতি জরুরি।
এ বিষয়ে ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নবগঠিত অত্র উপজেলা পরিষদের জন্য অনুমোদিত দপ্তরমূহের মধ্যে কয়েকটি ছাড়া সকল দপ্তর এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেনি। ফলে জনসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল বিভাগ নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করলে সরকরি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে উপজেলাবাসী উপকৃত হতো।
উপরোক্ত বিষয়ে জানতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. সালাহ উদ্দিনের সরকারি মোবাইল নাম্বারে বারবার কল এবং হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

 

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন