থানচি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় বহুমুখী সংকটে


বান্দরবানে থানচি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থানচি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিজ্ঞান, ইংরেজি, ব্যবসা শিক্ষা ৩ বিষয়ের শিক্ষক পদটি শূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন।
চলতি বছর এসএসসিতে ৮৪ জন পরীক্ষার্থী মধ্যে ৩৬ জন সাধারণ গ্রেডে পাশ করে ৪৩% পেয়েছে। বর্তমানে ৬ষ্ঠ হতে দশম পর্যন্ত গরিব অসহায় ৪০০ শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ও জীবন মান উন্নয়নের আশঙ্খা নিয়ে নানান সংকটে ধুঁকছে।
২০১৪ সালের সরকারিকরণের সুবাদে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৪০০। বিপরীতে শিক্ষক আছেন মাত্র ৫ জন। ইংরেজি, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ জন করে শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও, কিন্তু শূন্য। একমাত্র মানবিক বিভাগ ছাড়া চরম দুর্দশায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষক সংকট নিয়েই চলছে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগের মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্থাপিত হয়। ১৯৯১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০১২ সালে ১৭ নভেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা সাংগু সেতু উদ্বোধন কালে প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারিকরণের ঘোষণা করেন। ২০১৪ সালে পুর্নাঙ্গ সরকারিকরণ হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকসংকটের কারণে দিন দিন মাধ্যমিক পরীক্ষা বিপর্যয় দিকে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ থাকার কথা অন্তত পক্ষে ১৪ জন কিন্তু পদ রয়েছে ১০ জন, তারমধ্যে সহকারী শিক্ষ রয়েছেন মাত্র ৪জন। বিভাগ অনুযায়ী মানবিক বিভাগের শিক্ষক থাকলেও নেই ইংরেজি, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের পড়তে হয়েছে মানবিক বিভাগে।
এ প্রতিবেদক রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান, এক বুক হতাশা নিয়ে চেয়ারে বসে আছেন প্রধান শিক্ষক। গত বছরে তুলনায় এবারও পাশের হার কমছে। বিকল্প হিসেবে ধার করে শিক্ষক নিয়ে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞানাগার ভবন, আইসিটি, কম্পিউটা ল্যাবসহ সবকিছু থাকলেও অকেজো পড়ে আছে শতাধিক কম্পিউটারের সরজ্ঞাম।
আরো জানা যায়, গত ২৪ সালে ৭১ শতাংশ পরীক্ষা উক্তীর্ণ হয়েছে, এবারে ২৫ সালের ৮৪ জন পরীক্ষার্থী মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৩৬ জন যা ৪৩ শতাংশ। যা দিন দিন বিপর্যের দিকে ঝুঁকছে।
নবম ও দশম শ্রেণী শিক্ষার্থী মংসাই মারমা, উচসিং মারমা, তৈমতি ত্রিপুরা ও ম্যাসিংচিং মারমাসহ অনেকে প্রতিবেদকে বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ইংরেজি, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিষয়ভিক্তিক কোন শিক্ষক নেই। তাই আমাদের বিদ্যালয়ের কয়েকজন ব্যবসায় শিক্ষা শিক্ষার্থীর থাকলে বিজ্ঞান বিভাগের কেউ নেই।
বিষয়ভিক্তিক শিক্ষকের অভাবে গত বছর আমাদের সিনিয়র আপু ও ভাইয়েরা পরীক্ষার ফলাফল ভালো করতে পারেনি। এখন আমাদেরও দুশ্চিন্তা হয়, কীভাবে শিক্ষক ছাড়া পাঠ গ্রহণ করবো। তার পরও আমাদের শিক্ষকরা যথেষ্ট আন্তরিকতা দিয়ে আমাদেরকে পড়াইলে ও বিষয়ভিক্তিক না পড়িয়ে ক্লাসে গল্প গুজব ছাড়া কিছু নেই।
বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মো: শাহদাৎ হোসেন প্রতিবেদকের বলেন, আমি বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। কিন্তু আমাকে ইংরেজি, বিজ্ঞান, ব্যবসা শিক্ষাসহ প্রতিদিন ৪টি বিষয় বাধ্যতামূলক পাঠদান করতে হচ্ছে। আগামী অক্টোবর মাসের এলপিআরে চলে যাবো। আমি চলে গেলে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, ব্যবসা শিক্ষা, বাংলা, ইংরেজি কে পাঠদান করাবে শিক্ষক তো নেই। আমি শিক্ষার্থীদের মায়াজাল ছাড়তে পারব কিনা এবং প্রতিষ্ঠান আমাকে এলপিআর এর বিদায় দিবে কিনা এখন পর্যন্ত সন্দেহ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ প্রতিবেদকে বলেন, আমি একা সশরীরে গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ডে অনেকবার বিষয়টি জানিয়েছি কিন্তু এখনও সুরাহা হয়নি। আমাদের বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগার থেকে শুরু করে কম্পিউটার ল্যাব সব আছে কিন্তু শিক্ষক না থাকায় শতাধিক কম্পিউটার ভাইরাস আক্রমণে অকেজো হওয়ার পথে। ইতিমধ্যে আমরা বাইরের একজন শিক্ষক রেখেছি, খুব ন্যূনতম সম্মানী দিয়ে। বিদ্যালয়ের কোন প্রকার ফান্ড ব্যবস্থাও নেই বাইরে থেকে ভালো শিক্ষক নিয়ে আসার। সম্ভবও হচ্ছে না।

















